ক্রীড়া প্রতিবেদক
ভিয়েতনামের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে দুইজন বাদ। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের জায়গায় মিতুল মারমা এবং মিরাজুল ইসলামের জায়গায় শেখ মোরসালিন। এই পরিবর্তিত একাদশ নিয়েই গতকাল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের মাঠে ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই ম্যাচে বাংলাদেশী দর্শকও ছিল প্রচুর। তবে ম্যাচ শেষে এই প্রবাসীদের মতো টিভি পর্দায় চোখ রাখা অন্য বাংলাদেশী সমর্থকদের হতাশই হতে হয়েছে। কারণ লাল-সবুজরা ভালো খেলেও জিততে পারেনি। ৩৪ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে সিঙ্গাপুর যে গোলটি করে সেটিই হয়ে যায় ম্যাচের ফলাফল নির্ধারক। ১-০তে ম্যাচ জিতে আসিয়ান অঞ্চলের দেশটি ফিরতি ম্যাচেও হারালো হামজা চৌধুরীদের। উল্লেখ্য, গত বছর ১০ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। ফলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই বাছাইপর্ব শেষ করেছে সিঙ্গাপুর।
ডিফেন্সে তপু বর্মন নেই। ফরোয়ার্ড লাইনে রাকিব হোসেনও অনুপস্থিত। কাট সমস্যায় এই দু’জন না থাকার প্রভাবটাই পড়েছে মাঠে। সিঙ্গপুর যে গোলটি করেছে, এটি ছিল তপুর না থাকার প্রভাব। আর রাকিবের গ্যাপটা পূরণ হয়নি ফরোয়ার্ড লাইনে। এরপরও এই অ্যাওয়ে ম্যাচ দাপটের সাথেই খেলেছে হাভিয়ের কাবরেরার দল। শুরু থেকেই দাপটের সাথে খেলা লাল-সবুজদের। তবে গোলের জন্য মোক্ষম যে চান্সগুলো সৃষ্টি করা তা পারেনি বাংলাদেশ। ফাহমিদুল, মোরসালিন, ফাহিম- এদের ব্যর্থতারই জের শেষ ম্যাচে হার।
৭ মিনিটেই সাদ উদ্দিনের ক্রসে বলে পা লাগাতে পারেনি মোরসালিন। ১৪ মিনিটে সাদের ক্রসে শমিত সৌমের হেড যায় বারের ওপর দিয়ে। এরপর ৩৪ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সিঙ্গাপুর ম্যাচে লিড নেয়। বিপক্ষ খেলোয়াড়ের শট মিতুল মারমা ফিস্ট করলে বল সামনেই পড়ে। ফলে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন হারিয়াস স্টুয়ার্ট।
বিরতির পর বাংলাদেশ ফের চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। কোচ কাবরেরা খেলোয়াড়ও বদল করেন। ফাহমিদুল, সোহেল রানা, জায়ান আহমেদ, শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমদের তুলে নেন। মাঠে নামান রহমত, শাহরিয়ার ইমন, মিরাজুল ইসলাম, বিশ্বনাথ ও সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানিকে। এতে বাংলাদেশের খেলার গতি বাড়ে, গোলের চান্সও সৃষ্টি হয়। কিন্তু কপাল দোষে সমতাসূচক গোলটি পায়নি সফরকারী দল। ৭৯ মিনিটে হামজার ক্রসে মিরাজুল পোস্টে দুরূহ অ্যাঞ্জেল থেকে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা আবাহনীর এই ফরোয়ার্ডের শটটি সাইড পোস্টে প্রতিহত হওয়ায় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। এর আগে ৭৫ মিনিটে হামজার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি, ম্যাচে ফেরা হয়নি। তবে ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৪৮-এ থাকা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১৮১-তে থাকা বাংলাদেশ যে দাপটের সাথে খেলেছে, তা অবশ্যই গর্বের।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা জানান, এই ম্যাচে বাংলাদেশের হারটা প্রাপ্য ছিল না। আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু এরপরও জিততে পারিনি। এই ম্যাচের মতোই আরো কয়েক খেলায় আমাদেরই দাপট ছিল মাঠে। জেতার কথা ছিল আমাদেরই। কিন্তু হারটা আমাদেরই হয়েছিল।



