মিডল ইস্ট আই
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত নিজেদের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ইসরাইলে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সাথে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরাইলে স্থানান্তর করতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহরের সদর দফতরটি বারবার আক্রান্ত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এ হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দফতর এবং আরো অন্তত এক ডজন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এ ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
এ দিকে এ যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) নামের একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এ সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ লাভজনক হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইরানি সরকারের আসন্ন হুমকি দূর করতে’ এ যুদ্ধ শুরু করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তবে কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এ চুক্তির পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই। উভয় শিবিরেরই বেশির ভাগ সমর্থক মনে করেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।



