পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির যোগসাজশে প্রকাশ্যে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি ধাপে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, যা সরাসরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপন্থী।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কম্পিউটারে কম্পোজ করতে হবে এবং প্রশ্নপত্র প্রিন্ট, ফটোকপি, উত্তরপত্র (খাতা) ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খাত বা সিøপ ফান্ড থেকে নির্বাহ করতে হবে।
কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে নাজিরপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি করে শিক্ষকদের কাছে প্রতি প্রশ্নে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী ৬ টাকা ও তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণী ১০ টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বার্ষিক পরীক্ষার ফি বাবদ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী ২০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণী ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণী ৪০ টাকা ও পঞ্চম শ্রেণী ৫০ টাকা। এমনকি বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য বই দেয়ার সময়ও স্কুলপ্রতি ১০০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় মোট ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ১১০টি বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ নম্বর মধুভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০ নম্বর বৈঠাকাটা, ৩৮ নম্বর নাওটানাসহ ৫৯ নম্বর, ৬১ নম্বর, ৬৩ নম্বর, ৬৪ নম্বর, ৬৫ নম্বর, ৬৭ নম্বর, ১০৪ নম্বর ও ১৩৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাজিরপুর ৬৫ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানিয়া সাবরিনের বাবা সাব্বির খান বলেন, আমার মেয়ের কাছ থেকে ৪০ টাকা পরীক্ষার ফি নেয়া হয়েছে।
৯ নম্বর পশ্চিম বানিয়ারী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতির নির্দেশে আমি ১০০ টাকা করে আনতে বলেছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম ফয়সাল আলম স্যার প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ‘লিজ’ নিয়েছেন। তার মাধ্যম ছাড়া কেউ কোনো কাজ করাতে পারবে না। এ ছাড়া তিনি পেনশন ফাইলের জন্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ডেপুটেশনের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে শিক্ষকরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম ফয়সাল আলমের মুঠফোনে কয়েক দফায় চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হাকিম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। লিখিত অভিযোগ করুন, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলছি। যারা দোষী প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



