- উদ্বোধক প্রধানমন্ত্রী
- সরে দাঁড়াল ‘প্রকাশক ঐক্য’
হতাশা নিয়ে কড়া নাড়ছে একুশে বইমেলা। আর মাত্র দুই দিন পরই ২৬ ফেব্রুয়ারি কপাট খুলবে প্রাণের মেলার। গতকাল মেলা ঘুরে দেখা যায় শেষ সময়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে চলছে সাজ সজ্জার চূড়ান্ত পর্ব। রঙ ব্রাশের মাখামাখিতে চলছে স্টলের শেষ প্রস্তুতি। কিন্তু প্রথা ভেঙে মাসের শেষে মেলা শুরুতে হতাশায় ভুগছেন প্রকাশকরা।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুর দিন থেকেই মেলা শুরু হলেও এবার তা হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে তা ২০ ফেব্রুয়ারি শুরুর কথা। কিন্তু তার আগেই বেঁকে বসেন প্রকাশদের বড় একটি অংশ। রমজানে মেলায় বিক্রি কম হলে লোকসান হবে এমন অশঙ্কায় তারা মেলা পেছানোর দাবি জানান। এ নিয়ে একাধিক বৈঠকের পর স্টল ভাড়া মওকুফ করায় তারা ২৫ ফেব্রুয়ারি মেলায় অংশ নিতে সম্মত হন। কিন্তু সে সিদ্ধান্তের দুই দিন অতিবাহিত না হতেই প্রকাশকদের একটি বড় অংশ আবার পিছুটান দেন। তাতে তারা মেলায় অংশ নেবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকাশক বলছেন, একটির জন্য অন্যটি পিছিয়ে দেয়া মানে সেই শিল্পে ধ্বংশ ডেকে আনা। যা বই মেলার ক্ষেত্রে হয়েছে। ভাষার মাসের মেলা প্রথা ভেঙে তার আয়োজন পাঠক ও প্রকাশকদের উৎসাহকে নষ্ট করে দিয়েছে। ফলে এখন এ মেলা আয়োজন না করলেও কিছু যায় আসে না। তাই এতে অংশ নেয়ার খুব প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয় না। এমন হতাশা থেকেই বইমেলা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ‘প্রকাশক ঐক্য’।
স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দে অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া এবং সময় স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে অমর বইমেলায় অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’। সংগঠনটি বলছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সাথে বৈঠকের পর তারা ঈদের পর মেলা আয়োজনের দাবি থেকে সরে আসেন। নিশ্চিত ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে জেনেও তারা মেলায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেলায় অংশগ্রহণের আবেদনও সম্পন্ন করেন এবং প্রকাশক ঐক্যর সাথে যুক্ত তিন শতাধিক সাধারণ প্রকাশককেও তারা বইমেলায় অংশ নিতে রাজি করান।
এবার বইমেলায় সবার সমান অধিকারের স্বার্থে প্রকাশক ঐক্য কোনো প্যাভিলিয়ন নেবেন না এবং অন্য কাউকেও প্যাভিলিয়ন না দেয়ার দাবি জানায়। এরপর সব প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সর্বোচ্চ পাঁচ ইউনিটের স্টল সমানভাবে বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে মৌখিক সমঝোতাও হয়। কিন্তু বাংলা একাডেমি ‘অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়’ অনেক প্রকাশককে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।
তাদের ভাষ্য, এরই মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশকেরা তাদের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেন। এর ফলে মূলধারার প্রকাশকদের জন্য ছোট স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নেয়া অমর্যাদাকর। ফলে সব প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানান তারা।
প্রকাশক ঐক্যের অভিযোগ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক তাদের এই দাবিকে বাস্তবসম্মত আখ্যা দিয়ে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করলেও বৈঠকের পর তা চেপে যাওয়া হয়। পরে একাধিকবার মনে করিয়ে দেয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি সচিব ফোন করে প্যাভিলিয়ন বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানান। প্যাভিলিয়ন রেখেই মেলায় অংশ নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
প্রকাশক ঐক্য জানায়, প্যাভিলিয়ন বাতিল না হওয়ায় এখনো স্টল নম্বর বরাদ্দের লটারি হয়নি। মেলা শুরু হওয়ার তিন দিন আগে স্টল নির্মাণ, বিদ্যুৎসংযোগ ও বই সাজানো বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই ‘প্রকাশক ঐক্য’ এবারের বইমেলায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের কোনো সদস্য ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিবেচনায় অংশ নিতে চাইলে তাতে সংগঠনের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়।
তবে মেলার বিষয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি বলছে, মেলায় প্রায় ১১৫০টি স্টল থাকছে, যা আগে থেকে কিছুটা বেশি। তবে প্রতি বছর ফাল্গুনের দিনগুলোতে সবসময় ভিড় থাকে। ২১ ফেব্রুয়ারির দিন এক বিশাল ক্রাউড দেখা যেত, সেটা এবার মিস হয়েছে। সরকার গঠন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বিষয় মিলিয়ে এবার মেলা এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।
তবে দেরিতে শুরু হলেও তারা আশা করছেন, মেলা শুরু হলেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ফিরে পাবে তার চেনা প্রাণচাঞ্চল্য। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ভরে উঠবে বই, পাঠক আর লেখকদের পদচারণায়। মিলবে ভালো সাড়া।
এ দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন ও একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওইদিন সকালে একুশে পদক দেবেন এবং বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন তিনি।



