জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে উলামায়ে কেরামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল : ধর্মসচিব

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের উলামায়ে কেরাম, ইমাম-খতিব ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম ভূমিকা ছিল। এ ভূমিকা ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের পাশাপাশি আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব এবং দ্বীনি শিক্ষার্থীরাও বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ভূমিকা, অবদান, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা জরুরি।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দ্বীনি শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ধর্মসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের মানুষ নানা ধরনের ভয়-ভীতি ও অনিরাপত্তার মধ্যে জীবনযাপন করেছে। অনেক মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ বোধ করেনি। মত প্রকাশ, কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ নতুনভাবে তার বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাকী নদভী বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে একটি সমন্বিত গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিল তৈরির উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ইমাম, খতিব, মাদরাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তাদের ভূমিকা নথিভুক্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা কাজী মোহাম্মদ সেলিম রেজা। আলোচনায় আরো অংশ নেন সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের আমির মুফতি আবু আজহারুল ইসলাম, মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো: মহিউদ্দিন, দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এম এ বারী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রূহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান সিকদার।