এম জে এইচ জামিল সিলেট ব্যুরো
চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির কারণে সিলেটজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগর থেকে গ্রাম, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, ফলে উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমেছে ধস।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগে দৈনিক চাহিদার বিপরীতে গড়ে মাত্র ৬০-৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। গত রোববার বিভাগের চাহিদা ছিল ২১০ মেগাওয়াট, সরবরাহ মিলেছে ১৪৭ মেগাওয়াট, ঘাটতি প্রায় ৩০ শতাংশ। সিলেট জেলায় ১৬০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১১২ মেগাওয়াট। পল্লী বিদ্যুতেও একই চিত্র; সেখানে ঘাটতি প্রায় ৪৫ শতাংশ।
এই ঘাটতির ফলে শহর এলাকায় তুলনামূলক কিছুটা বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। কোথাও কোথাও পুরো রাত বিদ্যুৎ থাকে না, দিনে এলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই চলে যায়। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।
এদিকে আজ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার জন্যও উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই রাত জেগে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি জ্বালানি সঙ্কট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ডিজেল-পেট্রলের স্বল্পতায় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফটোকপি, প্রিন্টিংসহ জরুরি কাজেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা আগেই সীমিত হয়ে পড়েছে। তার ওপর দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা কমে গেছে। বন্দরবাজারের ব্যবসায়ী বদরুল আলম জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ে ক্রেতারা বাজারে আসছেন না, ফলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
আবাসিক এলাকাগুলোতেও একই দুর্ভোগ। অনেক বহুতল ভবনে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সঙ্কটে তা চালানো যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় বাসিন্দাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি সঙ্কট ও উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশজুড়েই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিলেটের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে।
পিডিবির সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, জাতীয় গ্রিডে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। উৎপাদন না বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। পল্লী বিদ্যুতের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মণ্ডলও একই মত দিয়ে জানান, জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ বৃদ্ধি ছাড়া স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমানোর সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই বিদ্যুৎ সঙ্কটে সিলেটবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।



