নিজস্ব প্রতিবেদক
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
আওয়ামী লীগের টানা ক্ষমতায় টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির না হয়ে ভার্চুয়ালি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফলে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানিতে সশরীরেই সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে হবে। তাদের ১৪ জনকে গুম করার ঘটনায় ১৭ আসামির বিরুদ্ধে চারটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. তোবারক হোসেন ভুইয়া। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
সকালে এই মামলার আসামি ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। দুপুরে তাদের মধ্যে সাতজনের আইনজীবী ড. তোবারক হোসেন ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদনের শুনানি করেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল তাকে প্রশ্ন করেন তিনি ভার্চুয়াল হাজিরার শুনানি করবেন নাকি আসামিদের অব্যাহতির দরখাস্তের শুনানি করবেন। তখন আইনজীবী জানান, তিনি ভার্চুয়াল হাজিরার শুনানি করবেন, অব্যাহতির আবেদন শুনানির জন্য সময় নেবেন।
ভার্চুয়াল হাজিরার শুনানিতে আইনজীবী তোবারকের কাছে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, কোন গ্রাউন্ডে তিনি ভার্চুয়াল হাজিরা চান।
আইনজীবী তোবারক বলেন, ‘তারা সেনা কর্মকর্তা। রায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এসব কর্মকর্তা অপরাধী না। তারা যেভাবে মিডিয়ার ট্রায়ালের শিকার হচ্ছেন, এরপর বিচারে খালাস পেয়ে গেলে কমান্ড রেজিমেন্টে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হবে না। তাদের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।’
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে আমরা কোনো সেনা কর্মকর্তার বিচার করছি না। তারা সেনাবাহিনীর হলেও ওই সময় কাজ করতেন র্যাবে, যা পুলিশের একটি বাহিনী। আমরা সেনাবাহিনী এবং দেশের সাধারণ মানুষ সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।’
আইনজীবী ড. তোবারক হোসেন ভুইয়া বলেন, ‘রায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এসব কর্মকর্তা অপরাধী না। তাই এরা যদি পরবর্তীতে খালাস পান তাহলে এরা তো চাকরিতে ফিরে যেতে পারবেন না। তা ছাড়া তারা সামাজিকভাবে ও মিডিয়ার মাধ্যমে সমস্যায় পড়ছেন।’
এ সময় বিচারক বলেন, এখানে সেনা আইনে বিচার হচ্ছে না। দেশের প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতি যদি আসতে পারে তাহলে তারা আসতে বাধা কোথায়?
জবাবে ওই আইনজীবী আবারো বলেন, সেনাবাহিনী ও এয়ারফোর্সের লোকজনকে বিচারের পর খালাস পেলেও তাদের আর বাহিনীতে ফেরত নেয়া হয় না। এ সময় বিচারক বলেন, এখানে ভার্চুয়ালি শুনানি রাখার সুযোগ নেই। আইনে কভার করে না, সবাই সমান। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, মাই লর্ড উনি মিস গাইড করছেন। এখানে কোনো বাহিনীর বিচার হচ্ছে না। এসব আসামি দেশের সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে ডেপুটেশনে গিয়ে দায়িত্বরত অবস্থায় ছিল। তাদের বিচার হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এতে করে তারা খালাস পাওয়ার শূন্যভাগও সুযোগ নেই।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, জুডিশিয়ারিতে অনেক বিচারক রয়েছেন যারা ডেপুটেশনে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দায়িত্বপালন করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে দুর্নীতির। সেটি বিাচরক হিসেবে নয়, সচিব হিসেবে। তাই এখানে বাহিনীর লোক হিসেবে তাদের অপরাধ নয়; বরং তারা ডেপুটেশনে গিয়ে গুম খুন করেছেন সেটি বিবেচ্য হবে। জবাবে আসামিদের আইনজীবী বলেন, মাই লর্ড কিন্তু বাহিনীর আইনে যদি তারা কোনো কারণে খালাস পায় তাদের আর ফেরত নেবে না। তা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো পেশায় এমন নয় যে, ২৪ ঘণ্টা জলে বা স্থলে দায়িত্ব পালনের শপথ করতে হয়। একমাত্র তিন বাহিনীতে কুরআন নিয়ে শপথ করে বলতে হয়। কেননা তাদের তো যুদ্ধের জন্য তৈরি করা হয়। তাই রায়ের আগে যদি মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যায়, তাহলে এরাতো বাহিনীতে আর ফিরতে পারবে না। জবাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারক বলেন, এটার সুযোগ নেই। আপনার আবেদন নামঞ্জুর করা হলো।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সেনাবাহিনীর সাথে এই বিচারকে মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এই শুনানির সময় আমরা লক্ষ করেছি। তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছেন যে, এই বিচার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। আমরাও সুস্পষ্টভাবে বলেছি, এটি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচার নয়। কারণ সামরিক শৃঙ্খলার বাইরে থাকা অবস্থায় আসামিরা এসব মারাত্মক অপরাধ করেছেন। তখন তারা র্যাবে ছিলেন। এসব অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা হয়। সুতরাং তাদের পক্ষে বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রার্থনা খারিজ করেছেন আদালত।
আদালত বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকই সমান। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুতর। তাই সবাইকে সমান সুবিধা দেয়া হবে। বিচারের সাজাপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইনোসেন্ট বিবেচিত হবেন; কিন্তু আসামি হিসেবে অন্যরা যে ধরনের সুবিধা ভোগ করেন, এর বাইরে নতুন কিছু পাবেন না তারা।
গত ২৩ নভেম্বর এ আবেদন করা হয়। পরে এ নিয়ে শুনানির জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, বিভিন্ন মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি জেলে রয়েছেন। তিনি সশরীরে হাজির হচ্ছেন। সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। আইন সবার জন্য সমান।
এ মামলায় গ্রেফতার ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মাহাবুব আলম, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো: মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: সারওয়ার বিন কাশেম।
পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) মো: খায়রুল ইসলাম।
আমি ফিট না, চাপে হার্ট অ্যাটাকের অবস্থা : জেড আই খান পান্না
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম করে রাখার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জেড আই খান পান্না রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হওয়ার পরও তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে ভর্ৎসনা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ সময় তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে আদালত তাকে সতর্ক করে ক্ষমা করেন।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গুমের মামলায় ১০ জন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার শুনানিকালে আদালত জানতে চান, শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাহেব কোথায়? জবাবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি এ মামলা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করছেন মর্মে ভিডিও বার্তায় বলেছেন।
আদালত বলেন, তিনি কি কোর্টে এসে বলেছেন? তিনি কি আইন জানেন না? নিয়োগ দিয়েছেন কোর্ট, তাকে কোর্টে এসে বলতে হবে তিনি প্রত্যাহার করতে চান। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা অভিযোগ গঠনের শুনানি করতে চাই। পরে আদালত, রেজিস্ট্রারকে বলেন, তাকে ফোন করে এখনি আসতে বলেন, অথবা একজন গিয়ে তাকে এখনি নিয়ে আসেন, তাকে এখনি আসতে হবে। ঠিক ১০ মিনিট পর হুইলচেয়ারে করে অন্য আইনজীবীদের সাথে নিয়ে আসেন পান্না। এ সময় প্রসিকিউশনের শুনানি থামিয়ে জেড আই খান পান্নাকে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনি কি সুস্থ আছেন? ট্রাইব্যুনাল পান্নাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি শেখ হাসিনার পক্ষে নিয়োগ পেয়েছেন। আপনি আসেননি কেন? আপনার অনুপস্থিতিতে শুনানি করতে হয়েছে। চাইলে আবার হবে। জবাবে পান্না বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তবে এ মামলায় না দাঁড়ানোর জন্য আমি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এ সময় আদালত জানতে চান, আপনাকে ট্রাইব্যুনালে গুমের দু’টি মামলায় শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একজন সিনিয়র আইনজীবী আপনি প্রসিডিং বোঝেন না?
জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, মাই লর্ড, আমি আনফিট, শারীরিক অবস্থা ভালো না। তা ছাড়া নিয়োগের বিষয়ে লিখিত কোনো আদেশ পাইনি। এ সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদার বলেন, ট্রাইব্যুনাল মৌখিক নিয়োগ দিলে সেটিই নিয়োগ। আপনি নিজেকে প্রত্যাহার করতে চাইলে সেটি ট্রাইব্যুনালের আইনানুযায়ী উপস্থিত হয়ে জানাতে হবে। আপনার জন্য চার্জ গঠনের শুনানি করা যাচ্ছে না। এ সময় আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, মাই লর্ড, আমি চাপ নিতে পারছি না। জবাবে বিচারক তার কাছে জানতে চান, আপনি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ক্ল¬াইন্ট আদালতকে মানে না, বিচার মানে না, তাই আপনিও বিচারে অংশ নেবেন না। এ ধরনের কথা আপনি বলতে পারেন? শেখ হাসিনার সাথে আপনার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে? জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, মাই লর্ড, আমি এক দিকে ক্লাইন্টের লোকজনের চাপ, অপর দিকে কলিগ আইনজীবীদের চাপ কোনোটা সামলাতে পারছি না। আমার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অবস্থা।
এ সময় আদালত বলেন, আসামিরা অনুপস্থিত! তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিলাম। আপনিও অনুপস্থিত। আপনি না এলে কোর্টের কার্যক্রম চালাব কী করে?
এ সময় জেড আই খান পান্না বলেন, মাই লর্ড, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। আদালত বলেন, আপনার বয়সী আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে খুব বেশি নেই বললেই চলে। আপনি এ বয়সে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে এসব কথা বলতে পারেন না। রায়ে কোনো ত্রুটি বা বিচার নিয়ে কোনো ত্রুটি থাকলে সেটি বলতে পারেন; কিন্তু বিচার মানি না বললে আপনার সাথে যায় না। এটা আপনি বলতে পারেন? তার অর্থ হলো আপনি দেশের আইন ও সংবিধান মানবেন না। এটা তো কনটেম্পট হবে। জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, আমি ’৭২-এর সংবিধান মানি। জবাবে আদালত বলেন, দেশে কি আর কোনো সংবিধান আছে? সংবিধান তো একটাই। সেটি বিভিন্ন সময়ে সংস্করণ হয়েছে।
এ সময় প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি ভিডিও বার্তায় ট্রাইব্যুনালের বিচার মানি না বললে সাধারণ মানুষের কাছে কী মেসেজ যায়? দেশে সংবিধান তো একটাই। ২৪-এ তো কোনো সংবিধান হয়নি। তিনি বিচারব্যবস্থা নিয়ে এভাবে কথা বলতে পারেন না।
এ সময় জেড আই খান পান্নার উদ্দেশে আদালত বলেন, মি. খান, আপনি ইতঃপূর্বে বললেন, আপনাকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ কেন দেয়া হলো না। পূর্বের মামলা যখন অর্ধেক তখন আপনি আসলেন। এ সময়ে অপর সিনিয়র আইনজীবীর নিয়োগ বাতিল করে আপনাকে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ আছে? এবার আপনাকে যখন নিয়োগ দিলাম, আপনি চার্জ গঠনের শুনানিতে আসলেন না। কোর্টে না এসে বাইরে থেকে বিভিন্ন কথাবার্তা ছড়াচ্ছেন। আপনি নিয়োগ দিলে আসেন না, না দিলে আপনাকে কেন দেয়া হয় না তা নিয়ে কথা বলেন।
জবাবে আইনজীবী জেড আই খান পান্না খুব নরম সুরে বলেন, মাই লর্ড, আমি ফিট না। বয়সও হয়ে গেছে। বিচারক বলেন, আপনি অসুস্থ এটা আমরা বিবেচনা করব। কিন্তু আপনি আইনবিরোধী কোনো কথা বলতে পারেন না। রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন না। আপনি মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। এ সময় আইনজীবী জেড আই খান পান্না চুপচাপ বসে থাকেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, আপনি আইনজীবীদের আইডল, আপনাকে সতর্ক হয়ে কথা বলতে হবে। কোনো ভুল মেসেজ দিবেন না। এ সময় ট্রাইব্যুনাল তার নাম প্রত্যাহার করে নেন। পরে গুমের দুই মামলায় শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আমির হোসেনকে নিয়োগ দেন।
এর আগে, গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই সাথে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাত দিনের মধ্যে দু’টি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন আদালত। ৮ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।



