নওগাঁর পতœীতলায় নতুন ভ্রমণ কেন্দ্র ঘুকশির বিল

Printed Edition
পর্যটকরা নৌকায় বেড়াতে যাচ্ছেন ঘুকশির বিলে : নয়া দিগন্ত
পর্যটকরা নৌকায় বেড়াতে যাচ্ছেন ঘুকশির বিলে : নয়া দিগন্ত

মো: আব্দুর রহিম পতœীতলা (নওগাঁ)

নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার প্রত্যন্ত নান্দাশ গ্রামে নতুন ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ‘ঘুকশির বিল’। বর্ষায় পানিতে টইটম্বুর বিলটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী।

ঘুকশির বিলটি পতœীতলার আমাইড় ইউনিয়নের নান্দাশ গ্রামে। এটি পতœীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত। বিলের ওপারে ধামইরহাটের ইসবপুর ইউনিয়ন। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাড়ি ও আশপাশের নিচু জমিতে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে বিলের সৃষ্টি হয়। বিলের দুই পাশে গ্রামীণ জনপদ ও সবুজ বনরাজি বিলের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বিলপাড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসেছে। বিলের পানিতে নৌকা ও স্পিডবোটে ঘুরছেন দর্শনার্থীরা। প্রায় ২০টি ছোট-বড় নৌকা ও স্পিডবোট রয়েছে। জনপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে এসব নৌযানে বিল ঘুরিয়ে দেখানো হয়। অনেকেই পানিতে নেমে জলকেলিতেও মেতে উঠছেন।

প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এখানে সরাসরি বাস যোগাযোগ নেই। ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এখানে। দর্শনার্থীদের আনাগোনায় বিলপাড়ে গড়ে উঠেছে খাবার ও খেলনার অস্থায়ী দোকান। পাশের খেলার মাঠটি গাড়ি রাখার জায়গায় পরিণত হয়েছে। নৌকায় উঠতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে।

নান্দাশ গ্রামের আবদুল হামিদ বলেন, গত বছরও এখানে তেমন মানুষ আসত না। এ বছর প্রথমবারের মতো দলে দলে দর্শনার্থীরা আসছেন। তাদের ঘিরে স্থানীয়রা বিলপাড়ে বিভিন্ন দোকান বসিয়েছে।

পতœীতলা থেকে ছেলেকে নিয়ে আসা শিক্ষক গৌর চন্দ্র বলেন, কয়েক দিন ধরে ঘুকশির বিলের কথা শুনেছি। এসে গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি, বেশ ভালো লাগছে। সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে তিনি মুগ্ধ। তবে দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা জানান, আষাঢ়-শ্রাবণে বিলটি পানিতে ভরে উঠলেও শুষ্ক মৌসুমে এখানে ফসলের চাষ হয়। তখন শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে জমিতে আবাদ করা হয়। ফলে বর্ষা শেষ হলে বিলটির চেহারা অনেকটাই বদলে যায়।

নজিপুর থেকে ঘুকশির বিলের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার এবং মাতাজীহাট থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার। সরাসরি বাস যোগাযোগ না থাকলেও ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত যানবাহনে যাওয়া যায়। তবে দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা এখনো এখনো গড়ে ওঠেনি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ঘুকশির বিলটিও স্থানীয় পর্যটনের সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।