গোলাম কিবরিয়া বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী ও বলেশ্বর নদীকে যুক্ত করেছে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভাড়ানী খাল। নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে এই একটি মাত্র নৌপথ ব্যবহার করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ খাল অতিক্রমের সময় প্রতিটি ট্রলার থেকে চরদুয়ানী নৌপুলিশ ফাঁড়ির নামে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই গুঞ্জন নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে সত্যতা মিলেছে, পাওয়া গেছে একাধিক কল রেকর্ড ও ঘুষ লেনদেনের ভিডিও।
অভিযোগের বিষয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবীর কাছে বক্তব্য চাইতে গেলে তিনি চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে এই খবরের তথ্য সংগ্রহকালে ইনচার্জের সামনেই আসাদুল নামের এক পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা চালান।
দক্ষিণাঞ্চলের নদী পরিবেষ্টিত পাথরঘাটা উপজেলার বেশির ভাগ মানুষের প্রধান জীবিকা মাছ ধরা। ট্রলার মালিক ও সাধারণ জেলেরা জানান, জীবন বাজি রেখে বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ শিকার করে তারা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রির জন্য আনেন। বিক্রি শেষে পুনরায় সাগরে যেতে হলে দিতে হয় নির্ধারিত টাকা। তা না দিলে জোটে মামলা, হামলা ও পুলিশি হয়রানি। এমনকি বৈধ নৌযান ও জেলেদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে ট্রলার নিলাম বা পুড়িয়ে দেয়া ও জেলেদের কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
জাকির হোসেনসহ একাধিক ভুক্তভোগী জেলে জানান, কাঠের ছোট নৌকা ও স্টিল বডি ট্রলার থেকে মাসে দেড় থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং মাছ ধরার ট্রলার ও বড় নৌযান থেকেও নির্ধারিত অঙ্কের টাকা নেয়া হয়। নির্ধারিত টাকা না দিলে নৌযান আটকে রাখার ভয় দেখানো হয়। শুধু জেলে নয়, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরাও। আজাদ ও সোহেল নামের দুই কাঠ ব্যবসায়ী জানান, গ্রামগঞ্জ থেকে কাঠ সংগ্রহ করে খুলনা বা সাতক্ষীরা যাওয়ার পথে জাহাজপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা দিতে হয়। তারা এই উন্মুক্ত চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান।
চরদুয়ানী বাজারের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, রক্ষকই এখন ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাকা না দিলে জেলেদের সাগরে নামতে দেয়া হয় না। নিঃস্ব জেলেদের ওপর এটি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। আমরা এই অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ দিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এএসআই কবিরের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি দূরে আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।
চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: গজনবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারো নাম ভেঙে টাকা নেয়া হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, জেলেদের থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি তারা এতদিন মুখে মুখে শুনলেও কোনো প্রমাণ পাননি। তবে সংগৃহীত ভিডিও প্রমাণ তিনি জেলা ও উপজেলার মিটিংয়ে উপস্থাপন করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানান জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করেন।



