নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শ্রমিকবান্ধব নয়, বরং এটি একটি এলিটবান্ধব বাজেটে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা : শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো: তসলিমের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ফেডারেশনের দেয়া ৩০টি সুপারিশের মধ্যে ডিজিটাল ডাটাবেজ, নারী শ্রমিকদের বাস এবং ১৫ লাখ জেলে পরিবারের ভিজিএফ সুবিধা বাজেটে অন্তভুক্ত হওয়া ইতিবাচক। তবে এর বাইরে শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন ও বেষম্য দূরীকরণের মতো মূল বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়নি।
বিগত ১০ বছরের বাজেট পর্যালোচনা করে তিনি দেখান, ১০ বছর আগে শ্রমিক খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ০.০০৬ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ০.০০৪ শতাংশে নেমে এসেছে, অথচ প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। তিনি পরোক্ষ করের মাধ্যমে ‘গরিব মারার বাজেট’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে শ্রমিকদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা, মহার্ঘ্যভাতা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং মজুরি সুরক্ষা তহবিলসহ স্বাস্থ্য ও পেশাগত বীমা চালুর দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং কর্মহীন ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় না আনলে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা হলেও বিশাল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সবসময় উপেক্ষিত থাকে। তিনি শ্রমিকদের আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তত তিন মাসের সমপরিমাণ মজুরি অগ্রিম সংরক্ষণের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি প্রস্তাব করেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য এ এম ফয়েজ আহমদ, লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী এবং বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



