তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটেহারা শতাধিক পরিবার

Printed Edition
সুন্দরগঞ্জে তিস্তা গর্ভে ভেঙে যাচ্ছে লোকালয় : নয়া দিগন্ত
সুন্দরগঞ্জে তিস্তা গর্ভে ভেঙে যাচ্ছে লোকালয় : নয়া দিগন্ত

রেজাউল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে গত এক সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার মৌজার ভোরের পাখি, সিঙ্গীজানী ও লালচামার পাড়ায় আকস্মিক ভাঙনে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগ পায়নি। নতুন করে ৮৩টি পরিবারের ভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দুই শতাধিক পরিবার।

সরেজমিন দেখা যায়, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ থেকে ১০ ফুট উঁচু পাড় ধসে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি, দুই হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি, ফসলি ক্ষেত ও গ্রামীণ সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নদীতে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, নদীভাঙনে ইউনিয়নের মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। রাতে ঘুমাতে পারছেন না তারা। কখন বাড়িঘর নদীতে চলে যায়, সেই শঙ্কায় রয়েছেন সবাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।