সাক্ষাৎকার : ড. মাহফুজুর রহমান

গণবিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখার দায়িত্ব তরুণদেরই

চব্বিশের গণবিপ্লবে তরুণরাই মিছিলে অগ্রগামী ছিল, বয়স্করা ছিলাম না। আজকের তরুণরাই চব্বিশের বিপ্লবের উত্তরসূরি। বিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখা তাদের অস্তিত্বতের রক্ষাকবচ।

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition
গণবিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখার দায়িত্ব তরুণদেরই
গণবিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখার দায়িত্ব তরুণদেরই

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান বলেছেন, চব্বিশের গণবিপ্লব তরুণরাই করেছে এবং এটা ধরে রাখা তাদেরই দায়িত্ব। চব্বিশের গণবিপ্লবে তরুণরাই মিছিলে অগ্রগামী ছিল, বয়স্করা ছিলাম না। আজকের তরুণরাই চব্বিশের বিপ্লবের উত্তরসূরি। বিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখা তাদের অস্তিত্বতের রক্ষাকবচ। যারা ক্ষমতায় আছেন তারা যদি বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ না করেন তা হলে তাদেরকে তা ধারণ করতে বাধ্য করা তরুণদের অব্যাহত দায়িত্ব।

নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ দায়িত্ব বিভিন্নভাবে পালন করা যেতে পারে। অরাজকতা সৃষ্টি নয় বা দেশের ক্ষতি করে, জানমালের ক্ষতি করে সরকারকে বাধ্য করতে বলছি না, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাধ্য করার বিভিন্ন রকম উপায় আছে, সেই চেতনা, উপায়কে অবলম্বন করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থানের চেতনাই চব্বিশের বিপ্লবের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। সাম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান বা আমাদের রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে গণমুখী অবস্থান ছিল তরুণদের মধ্যে। তরুণরা এ প্রশ্নে ছিল আপসহীন।

নয়া দিগন্ত: রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া কতটুকু প্রয়োজন? ভোট দেয়ার পর জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে অনেক সময় নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তাদের আর কী করার আছে?

ড. মাহফুজুর রহমান: রাজনৈতিক সচেতনতা সব সময় জরুরি। শুধু ভোটের সময় নয়। শাসকের যেমন দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে, জনগণেরও তেমনি দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে ইসলামের দৃষ্টিতে। রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের সুশাসন উপহার দেয়া। জনগণের সম্পদকে আমানত হিসেবে রক্ষা করা। যেখানেই তা ব্যয় করা হবে তা আমানতদারির সাথে ব্যয় করার ব্যবস্থা করা। তা ছাড়া গোটা শাসন ব্যবস্থায় এমন লোকদের নিয়োগ দেয়া যারা চরিত্রবান ও আমানতদার। খোদাভীরু এসব লোকদের নিয়োগ দেয়াই শাসকদের কর্তব্য।

নয়া দিগন্ত: তা হলে তো দুর্নীতির আর কোনো সুযোগ থাকে না।

ড. মাহফুজুর রহমান: আল্লাহ আমানতদার ও হকদারদের হাতে জনগণের দায়িত্ব তুলে দিতে বলেছেন। সৎচরিত্রবান মানুষের হাতে এ দায়িত্ব তুলে দেয়ার বিষয়টি সাঙ্ঘাতিকভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এটা রোধ করার চাবিকাঠি জনগণের হাতে। জনগণ যদি সৎ লোকদের হাতে শাসন তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে বাধ্য না করে তা হলে চরিত্রহীন শাসকরা চরিত্রহীন লোকদেরকেই এ কাজে নিয়োগ দেবে। যারা আমানতদার নয় তারা আমানতদারদের নিয়োগ দেবে না।

নয়া দিগন্ত: জনগণ কিভাবে বাধ্য করবে, ভোট দেয়ার পর জনগণের কি আর কিছু করার থাকে?

ড. মাহফুজুর রহমান: জনগণের কিছু করার অবশ্যই আছে। মুসলিম শরিফের একটি হাদিস যতটুকু আমার মনে পড়ছে তাতে বলা হয়েছে, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত শাসকদের আনুগত্য করতে থাকবে যতক্ষণ না তারা প্রকাশ্য কুফরী করে। আমাদের শাসকদের মধ্যে এমন মানুষ আছেন যারা প্রকাশ্যে কুফরী কথা বলছেন, কুফরী কর্ম তারা করছেন। যখন শাসকরা কুফরী করে তখন তার প্রতিবাদ করার কথা হাদিসে ঘোষণা করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত: তার মানে জনগণকে তো সংগঠিত হতে হবে।

ড. মাহফুজুর রহমান: হ্যাঁ সংগঠিত হতে হবে। প্রতিবাদের ভাষাও বিভিন্ন রকমের। সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটা মিছিল, পত্রিকায় একটা লেখা, তার পরে একটা বক্তৃতা- এগুলো প্রতিবাদের ভাষা। এটা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন সব কাজই প্রতিবাদের ভাষা। জনগণের কর্তব্যের মধ্যে এটা পড়ে যে যখন শাসকগোষ্ঠী প্রকাশ্য কুফরী করবে, তখন তার প্রতিবাদ জনগণকে করতে হবে। যাতে শাসকগোষ্ঠী সজাগ থাকে এবং তারা যেনো কুফরী না করে। মুসলিম দেশের শাসকগোষ্ঠী যদি উল্টা পাল্টা কথা বলে, কুফরী করে যেমন নির্বাচনের আগে একটি দলের শীর্ষ নেতা বলেছিলেন আমরা শরিয়তের আইনে বিশ্বাস করি না, এটা কুফরী কথা। একজন মুসলিম এ ধরনের কথা বলতে পারে না যে শরিয়তের আইন বিশ্বাস করি না। এ ধরনের কথা বলার কোনো সুযোগ মুসলমানের নেই। যে মুসলমান এ ধরনের কথা বলেন তিনি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যান। এ ধরনের কথাবার্তার প্রতিবাদ করার অধিকার বা কর্তব্য জনগণের আছে।

নয়া দিগন্ত: মুস্কিল হচ্ছে এ ধরনের প্রার্থীরা ভোটের সময় মাথায় টুপি পড়েও ভোট চায়।

ড. মাহফুজুর রহমান: এটা হচ্ছে জনগণের সাথে আরেকটা প্রতারণা। দ্বিচারিতা। যখন ভোট আসবে তখন মাথায় টুপি দেবেন, হাতে তসবি নেবেন, মুসল্লি সাজবেন এটা এক ধরনের মুনাফেকী। এ ধরনের মুনাফেকীর কাজগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখতে পাই। যারা সারাজীবন ইসলামের অনুশাসন মেনে চলে, তাদেরকে আমরা কোণঠাসা করতে গিয়ে, বিরোধিতা করতে গিয়ে উপেক্ষা করার একটা চরম অপচেষ্টা রয়েছে সমাজে।

নয়া দিগন্ত: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একটি দল আরেকটি দলতো ঘায়েল করতে চাইবে।

ড. মাহফুজুর রহমান: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা এক জিনিস আর মেধাহীনভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঢালাওভাবে দায়ী করা আরেক জিনিস। ইসলামী দলগুলো সমাজ সেবার মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে। এমন কর্মসূচির অভাব রয়েছে প্রতিপক্ষ দলগুলোর মধ্যে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সহজেই প্রতিপক্ষকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘায়েল করার একটা চেষ্টা আমরা দেখতে পাই।

নয়া দিগন্ত: রাজনৈতিকভাবে কর্মসূচি বা মেধা ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যাচাই করার চেষ্টা না থাকায় তো জনগণও কোন দল তাদের পক্ষে কল্যাণ চায় তা বুঝে ওঠার সুযোগ পায় না।

ড. মাহফুজুর রহমান: এখানেই জনগণ বঞ্চিত হয়, দুর্নীতির সাথে প্রলুব্ধ হয়ে জড়িয়ে পড়ে। আপনারা যারা মিডিয়ায় কাজ করেন, মিডিয়া মানুষের মনের ওপর সহজেই প্রভাব ফেলে, হিটলারের সহচর গোয়েবলসের নীতি যে একটি মিথ্যা শতবার বলা হলে মানুষ তা সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে, দেশে সেটাই হচ্ছে। যখন একাধিক মিডিয়া থেকে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কথা বলা হয় তখন জনগণ একপর্যায়ে সেটা বিশ্বাস করতে থাকে, সমাজে কয়জনের বাছ-বিচার করার ক্ষমতা আছে?

নয়া দিগন্ত: তথ্যের সত্যানুসন্ধান ও ইসলাম চর্চার একটা নিরন্তর প্রচেষ্টা তো জরুরি।

ড. মাহফুজুর রহমান: অবশ্যই। রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ইসলাম এ দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যে যত বেশি ইসলামী জ্ঞান অর্জন করবে সে তত বেশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হবে। তখন তারা সত্য ও মিথ্যা বোঝার ক্ষমতাও অর্জন করবে। এ প্রচেষ্টা শুধু রোজা বা কোরবানির মধ্যে নয় সারা বছর বা ফি-বছর নিরন্তর চেষ্টার একটা অংশ হওয়া উচিত। ধাপে ধাপে মানুষ এভাবে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে তুলতে পারে। এক দিনের জিনিস নয়। সামাজিকভাবে পরিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপার। পঞ্চাশ বছর আগে আমাদের সমাজে এমন ধর্মীয় জ্ঞান ছিল না। তখন বাংলাভাষায় কয়টা ইসলামী বই ছিল। আশাবাদী এ কারণে, মানুষ ইসলামকে জানার চেষ্টা করছে দেশে এবং বিদেশে। ইউসুফ কারযাভির দুটি বই অনুবাদ করতে যেয়ে দেখেছি পাশ্চাত্য সভ্যতা বা আধুনিক বিশ্ব বলুন প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা মানুষের জীবন চাহিদা পূরণ করতে না পারায় ইসলামের দিকে ঝুঁকছে মানুষ। বিশেষ করে নারীদের ইসলাম গ্রহণে প্রবণতা বেশি।

নয়া দিগন্ত: নারীরা পুরুষের চেয়ে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে কেনো?

ড. মাহফুজুর রহমান: ইসলাম গ্রহণে নারীদের ঝুঁকিও বেশি। পুরুষরা ইসলাম গ্রহণ করলেও সমাজে তা সহজে টের পাওয়া যায় না যতক্ষণ না তা সে প্রকাশ না করে। কিন্তু নারীদের বেশভূষার পরিবর্তন ঘটে, তার আচরণগত পার্থক্যে সহজেই টের পাওয়া যায়। একজন পুরুষ ইসলাম গ্রহণ করে তার স্বজনদের না জানিয়ে বছরের পর বছর থাকতে পারে। কিন্তু একজন নারীর পক্ষে ইসলামকে লুকিয়ে রাখা সহজ হয় না। পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক, সন্তানদের সাথে সম্পর্ক, স্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সমস্যা, পরিবার থেকে সরে গেলে বাচ্চাদের লালন পালনে অক্ষমতার মতো অনেক ঝুঁকি সত্ত্বেও নারীরা অনেক বেশি মাত্রায় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ইসলামকে বেছে নিচ্ছে।

নয়া দিগন্ত: তরুণদের জন্য কিছু বলবেন?

ড. মাহফুজুর রহমান: পৃথিবীর প্রতিটি সমাজে পরিবর্তন আসে তরুণদের হাত ধরেই। চব্বিশের গণবিপ্লবে তরুণরাই মিছিলে অগ্রগামী ছিল, বয়স্করা ছিলাম না। বিপ্লবকে ধরে রাখার দায়িত্ব তরুণদেরই। তাদেরই কর্তব্য হচ্ছে বিপ্লবকে ধরে রাখা। আজকের তরুণরাই চব্বিশের বিপ্লবের উত্তরসূরি। বিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখা তাদের অস্তিত্বের রক্ষাকবচ। যারা ক্ষমতায় আছেন তারা যদি বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ না করেন তা হলে তাদেরকে তা ধারণ করতে বাধ্য করা তরুণদের অব্যাহত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব বিভিন্নভাবে হতে পারে। অরাজকতা বা দেশের ক্ষতি করে, জানমালের ক্ষতি করে সরকারকে বাধ্য করতে বলছি না, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাধ্য করার বিভিন্ন রকম উপায় আছে, সেই চেতনা, উপায়কে অবলম্বন করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থানের চেতনাই চব্বিশের বিপ্লবের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। সাম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান বা আমাদের রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে গণমুখী অবস্থান ছিল তরুণদের মধ্যে। তরুণরা এ প্রশ্নে ছিল আপসহীন। যে কারণে ৫ আগস্ট বিপ্লবের দিন বিমানবন্দরে বিশেষ বিমানে করে কিছু মানুষ এ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তারা এ দেশী মানুষ ছিল না। আধিপত্যবাদের ছোবল আমাদের সমাজে ও রাজনীতির ওপর কী পরিমাণে পড়েছিল সেটা সবাই জানে। এই আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত রাখা, বিশেষ করে যারা এ আধিপত্যবাদকে ফের ফিরিয়ে আনতে চায় তাদের বিপরীতে এ দেশে তৌহিদি সংস্কৃতির ধারক-বাহকদের ওপর একটা পৌত্তলিক সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ কারণেই একজন ব্যক্তির মূর্তি সারা দেশে স্থাপন করা হয়েছিল। জনগণের অর্থ দিয়ে স্বৈরাচার শাসককে মূর্তি বানানোর অধিকার কারা দিয়েছিল। জনগণ মূর্তি বানানোর জন্য কর দেয়নি। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের কাছে মূর্তি বানানো হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়টির নামের সাথে ইসলামী নামটি না থাকলে হয়তো মূর্তিটি বানানোর প্রয়োজন হতো না।

নয়া দিগন্ত: ইসলামী সংস্কৃতির সাথে রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি ওতপ্রোতভাবে জড়িত?

ড. মাহফুজুর রহমান: ঠিক তাই। রাজনৈতিক ধারার প্রভাব পড়ে ধর্মীয় সংস্কৃতির ওপর। অবশ্য আমাদের পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আমদানির প্রবণতা আছে। আবার ঈদ ধর্মীয় উৎসব হলেও দিনটিতে রাসূল সা: ও তাঁর সাহবিরা কী করতেন আমরা তার খোঁজ রাখি না। যেমন তাকবির পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া এটা কিন্তু সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ আফ্রিকার দেশগুলোতে দেখা যায়, আমাদের দেশে এমনটা হয় না। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় তাকবির পড়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন সামান্য কিছু তাকবির পড়েন। কিন্তু প্রতিটি মানুষকে উচ্চস্বরে পড়তে দেখেছি অন্যান্য মুসলিম দেশে। ঈদের জামায়াতে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাদের দেশে উপেক্ষা করা হয়। রাসূল সা: নারীদের ঈদগাহে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ওই সময় যদি নারীদের কারো নামাজ না থাকলেও (শারীরিক অসুবিধার কারণে) তাদের ঈদগাহের বাইরে অবস্থানের কথা বলেছেন। অন্তত দোয়ায় তারা শরিক হবেন। একজন নারী রাসূল সা: জিজ্ঞেস করেন যে যদি ঈদগাহে যাওয়ার মতো পোশাক কারো না থাকে, রাসূল সা: বলেছিলেন তার অন্য বোনেরা তাকে ওড়না উপহার বা ধার দেবে। নারীদের ঈদগাহে যাওয়ার গুরুত্ব সাঙ্ঘাতিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে উপেক্ষিত। অন্যান্য মুসলিম দেশে নারীরা ঈদের জামায়াতে অংশ নেয়। ঈদের দিনে ভালো খাবার খাওয়া, খেলাধুলার তাগিদ দিয়েছেন এবং রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন রাসূল সা:। একবার ঈদের দিন রাসূল সা:-এর বাড়িতে দুটি মেয়ে গান করছিলেন। এ সময় আবু বকর রা: এসে ধমক দিয়ে তাদের বললেন, রাসূল সা:-এর বাড়িতে শয়তানের স্তুতি গাওয়া হচ্ছে। তখন রাসূল সা: চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিলেন। চাদর সরিয়ে রাসূল সা: আবু বকর রা:কে বললেন তাদেরকে গাইতে দাও, কারণ আজকে ঈদের দিন। এগুলো বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে আছে। ঈদের দিন মসজিদে খেলাধুলার ব্যবস্থা হতো। একবার আয়েশা রা: রাসূল সা:-এর সাথে সেই খেলা দেখতেও গিয়েছিলেন। এ ধরনের আনন্দ বিনোদনের সুযোগ ইসলাম করে দিয়েছে। কিন্তু আনন্দ বিনোদন করতে গিয়ে শরিয়তের বিধান লঙ্ঘন করে ফেলার প্রবণতা আমাদের মধ্যে রয়েছে। এমন আনন্দ বিনোদন করি যেটা শরিয়ত অনুমোদন করে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ ভুলে গেলে চলবে না কারণ আমাদের কোনো কাজই ইবাদতের বাইরে নয়। ঈদের দিন নামাজকে মুসলমান নারী ও পুরুষের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নারী ও পুরুষ যাতে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে তার একটা অন্তর্নিহিত লক্ষ্য রয়েছে এ ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে।