সিলেটে কমেছে কোরবানির পশু উৎপাদন

বাড়তে পারে দাম

Printed Edition

এমজেএইচ জামিল সিলেট ব্যুরো

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা ও উৎপাদন, দুই-ই কমেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এবার বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা দুই লাখ ৭১ হাজার ৪৭৭টি। বিপরীতে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত রয়েছে তিন লাখ লাখ হাজার ৫১৫টি পশু। অর্থাৎ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৩৭ হাজার ৩৮টি পশু। তবে গত বছরের তুলনায় চাহিদা কমেছে এক লাখ ২২ হাজার ৭৭৪টি এবং উৎপাদন কমেছে এক লাখ ২১ হাজার ৮৮২টি।

গত বছর সিলেট বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল চার লাখ ৩০ হাজার ৩৯৭টি, আর চাহিদা ছিল তিন লাখ ৯৪ হাজার ২৫১টি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাজারে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ, পশু পালনের উচ্চ ব্যয় এবং ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সিলেট বিভাগের চার জেলার খামারগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের হৃষ্টপুষ্টকরণ চলছে। ছোট, মাঝারি ও বড়, সব ধরনের পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, খামারিদের প্রশিক্ষণ, স্টেরয়েডমুক্ত মোটাতাজাকরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবু খামারিদের বড় উদ্বেগ উৎপাদন ব্যয়।

খামারিদের ভাষ্য, সয়াবিন খৈল, গমের ভুসি, রাইস পলিশ, মসুর ভুসি, সরিষার খৈল, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তীব্র গরমে পশুর অতিরিক্ত পরিচর্যা, ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিক মজুরি, সব মিলিয়ে এবার প্রতি পশু লালনপালনে ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে কোরবানির পশুর দামও বাড়তি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

সিলেট বিভাগের প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৭৫৬টি ষাঁড়, ৩২ হাজার ৩৬৮টি বলদ, ৩৭ হাজার ৩৯২টি গাভী, পাঁচ হাজার ৪২০টি মহিষ, ৭৭ হাজার ৬৪৬টি ছাগল, ২৪ হাজার ১৪টি ভেড়া এবং ৯১৯টি অন্যান্য পশু।

জেলা ভিত্তিক হিসাবে সিলেট জেলায় চাহিদা ৮৩ হাজার ৫৪১টির বিপরীতে প্রস্তুত এক লাখ দুই হাজার ২৭৮টি পশু। মৌলভীবাজারে চাহিদা ৭৮ হাজার ৯২৯, প্রস্তুত ৮০ হাজার ৬৩৭; হবিগঞ্জে চাহিদা ৬৫ হাজার ৫৮৩, প্রস্তুত ৭০ হাজার ৭৪৬; আর সুনামগঞ্জে চাহিদা ৪৩ হাজার ৪২৪টির বিপরীতে প্রস্তুত ৫৪ হাজার ৮৫৪টি পশু রয়েছে। চার জেলাতেই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকলেও গত বছরের তুলনায় উৎপাদন কমেছে।

খামারি আব্দুর রহিম বলেন, ‘৬০ হাজার টাকায় গরু কিনে প্রায় ২০ হাজার টাকার খাবার খাওয়ানো হয়েছে। এক লাখ টাকার নিচে বিক্রি করলে লাভ থাকবে না।’ অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও একই ধরনের হিসাব কষছেন।

আরেকটি বড় শঙ্কা সীমান্তপথে ভারতীয় পশুর অবৈধ প্রবেশ। স্থানীয় খামারিদের দাবি, কোরবানির ঠিক আগে চোরাই পশু বাজারে ঢুকলে স্থানীয় পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সীমান্ত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের পরিচালক ডা: মারুফ হাসান বলেন, ‘এবার সিলেটে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই, বরং ৩৭ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব।’ তবে তিনি জানান, সিলেটের অনেক প্রবাসী বড় আকারের গরু কোরবানি দিতে আগ্রহী হওয়ায় দেশের অন্য জেলা থেকেও বড় পশু আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, সিলেটে পশুর ঘাটতি না থাকলেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদা হ্রাসের দ্বৈত প্রভাবে এবার কোরবানির পশুর বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি খামারিদের লাভ-লোকসানের হিসাবও থাকবে অনিশ্চয়তায়।