দ্বিতীয় টেস্টেও বাংলাদেশের জয় চান বাসিত

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

‘বাংলাদেশ এমন একটি কাজ করেছে, যা এশিয়ার কোনো দল করতে পারেনি। সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদেরকে টেস্টে হারিয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ এক বিশাল অর্জন করেছে। বাংলাদেশের টাইগাররা অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারুদের একেবারে জাপটে ধরেছে, ক্রিকেটের ভাষায় তাদের বুলডোজ করে দিয়েছে।’ বাংলাদেশের জয়ে এমন মন্তব্যই পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী।

আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকয়তে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। বাসিত আশা করছেন, ‘এখন আর কেউ শুধু বলবে না যে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়েছিল। এখন মানুষ বলবে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়েছে। আর দোয়া করি, দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচেও তারা একই ধরনের ক্রিকেট খেলুক। তারা হারলেও সমস্যা নেই, কিন্তু তাদের খেলার ধরন যেভাবে মানুষের হৃদয় জয় করেছে, সেটাই বড় ব্যাপার। তবে প্রথম টেস্টের ফলাফল দেখে অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। কোনো সন্দেহ নেই, ৯ উইকেটে হারের পর অস্ট্রেলিয়া পরের ম্যাচে ভিন্নভাবে ফিরবে।’

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ রানার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বাসিত বলেন, ‘নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে থাকলে সেই উঁচু বাউন্সারগুলো করে ব্যাটারকে পেছনে ঠেলে দিতে পারত।’

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে টেস্ট ক্রিকেটের মৌলিক কৌশলের কথাও তুলে ধরেছেন বাসিত। ‘শান্তুর দুই দিনের সাক্ষাৎকারের কথাগুলো মনে পড়ছে। সে বলেছিল, আমরা বিশ্বাস রেখেছি, সেশন ধরে ধরে খেলেছি। টেস্ট ম্যাচ আসলে এভাবেই সেশন ধরে ধরে খেলতে হয়।’

অভিনন্দন জানিয়ে বাসিত বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণকে, আমাদের পুরোনো বন্ধুদের অভিনন্দন। ফিল সিমন্স আমার খুব ভালো বন্ধু। মুশতাকও দলের সাথে আছে, সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন। আপনারা বিশ্বকে বলে দিয়েছেন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।’

পাকিস্তানের শিক্ষা নেয়া উচিত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে আত্মবিশ্বাস ও পরিকল্পনার বড় ভূমিকা দেখছেন বাসিত আলী। পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশী দলের হোয়াইটওয়াশ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে জয় এবং এবার ডারউইনে টেস্ট জয়ের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বাসিত বলেন, ‘আপনারা দেখুন, বাংলাদেশ পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে তাদের হোয়াইটওয়াশ করেছে। তখন তারা বলেছে, আমাদের সামর্থ্য আছে।’

সেই সময়ে হাসান মাহমুদ ভালো পারফর্ম করেছিল, নাহিদ রানা নতুন এসেছিল, তাসকিন ছিল, সাকিবও সেই দলে ছিল। এরপর নিজেদের দেশে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল। তার পর অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারাল, যদিও টি-২০তে হেরেছিল। কিন্তু কেউ ভাবেনি যে অস্ট্রেলিয়ায় এসে তারা এভাবে খেলবে। অস্ট্রেলিয়াও এটি ভাবেনি। তারা আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বেশি নিয়ে খেলতে এসেছিল। হাসান মাহমুদও বলেছে, ব্যাটারকে আটকানোর পরিকল্পনা ছিল। তারা সেশন ধরে ধরে পরিকল্পনা করেছিল।’

বাংলাদেশের কাছ থেকে পাকিস্তানের শিক্ষা নেয়ার কথা বলেন বাসিত, ‘এটি অনেক বড় একটি শিক্ষা পাকিস্তানের জন্য। ভারতের জন্য বলব না, শ্রীলঙ্কার জন্যও বলব না। পাকিস্তানের জন্য শিক্ষা হলো, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। বাংলাদেশ প্রমাণ করে দিয়েছে যে তাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস ছিল।’