ভূঁইয়া কামাল মুলাদী (বরিশাল)
বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর বাজার থেকে জাগরণী বাজার হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল দশার সবচেয়ে বড় শিকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন পূর্ব তয়কা ও জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিচ্ছিল এই সড়ক দিয়ে বাধ্য হয়ে যাতায়াত করে। প্রায়ই কাদা-পানিতে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও জামাকাপড় নষ্ট হচ্ছে এবং হাত-পা ভেঙে আহত হচ্ছে ছোট ছোট শিশুরা। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া কোনো আশঙ্কাজনক রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো: জালাল ঘরামী বলেন, গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে তাকে গাড়িতে তোলার উপায় নেই। বাধ্য হয়ে খাট বা চেয়ারে বসিয়ে কাঁধে করে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয়। সড়কের কিছু অংশে বাঁশ, গাছ ও বালুর বস্তা ফেলে আমরা কোনোমতে চলাচলের চেষ্টা করছি। জাগরণী বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তারা পণ্য পরিবহনে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে টেকসই সড়কের আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে না।
যোগাযোগের করুণ দশার কথা স্বীকার করে বাটামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, বাটামারা ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তার পরিমাণই বেশি। বিশেষ করে বর্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয়রা। আট কিলোমিটারের এই রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক মো: গোলাম সরওয়ার জানান, সরকারি বরাদ্দ ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। নতুন অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথেই সেলিমপুর বাজার থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত সড়কটির কাজ শুরু করা হবে।



