সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননীকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার শম্ভুপুরা এলাকায় ঝুমুর আক্তার নামের ওই নারী আত্মহননে মারা যান, আর এ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে মো: জনি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই নারী। এই ঘটনার পর পরকীয়া প্রেমিক জনির গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাতেই ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকার ঝুমুর আক্তারের স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এলাহীনগর এলাকার মো: জনি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুমুরের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে। এ ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে ঝুমুরের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটে নেয়। একপর্যায়ে টাকা হারিয়ে ঝুমুর নিঃস্ব হয়ে পড়লে জনি তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করে।
সর্বস্ব হারিয়ে গত রোববার বিয়ের দাবিতে জনির বাড়িতে অবস্থান নেন ঝুমুর। সেখানে চরম মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা বার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এই নির্মম ঘটনায় কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই।



