পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

Printed Edition

মো: আল আমিন কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। গতকাল শনিবার সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। দিনভর গণনা শেষে রাত পৌনে ৮টায় টাকার এ হিসাব পাওয়া যায়। টাকা ছাড়াও মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার। পাওয়া গেছে নানা ধরনের চিঠিও।

দানবাক্স থেকে টাকা বের করে প্রথমে ৩৫টি বড় বস্তায় ভরা হয়। পরে বস্তাগুলো মাথায় করে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চলে গণনা।

মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের ঐতিহাসিক মসজিদটিতে ১৩টি দানবাক্স আছে, যেগুলো সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। এবার খোলা হয়েছে তিন মাস ২৭ দিন পর। ধারণা করা হচ্ছিল এবার টাকার পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে; কিন্তু টাকা গণনা শেষে জানা গেছে গতবারের চেয়ে এবার টাকার পরিমাণ কম হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদরাসার ১১০ ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদরাসার ২৫০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৩৩ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য । কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, ‘পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। বস্তার হিসাবে ধারণা করেছিলাম গতবারের তুলনায় টাকার সংখ্যা এবার বেশি হবে। তবে এবার প্রায় এক মাস আগে দানবাক্সগুলো খোলা হয়ে গেছে। আর এই স্বাভাবিক কারণেই হয়তো এবার টাকা কম হয়েছে। তিনি আরো জানান, কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে তিনিসহ তার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।