ময়মনসিংহ অফিস
তীব্র গ্যাসসঙ্কটে ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশের হিসেবে, গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বন্ধ রাখতে হয়েছে শত শত মেশিন।
শিল্প পুলিশ-৫ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে শ্রমিকরা কারখানায় উপস্থিত হলেও স্বাভাবিক উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়নি। মাহাদি সোয়েটার্স, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা সরাসরি গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই উৎপাদন সঙ্কটে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জেনারেটর ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালুর চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রয়েছে। ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসের ৩০টি মেশিনও গ্যাস সঙ্কটে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনার্স ও এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলেও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক্সিলেন্ট সিরামিকসের ফার্নেস বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমেছে।
শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত ২০টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়। তিতাস কর্তৃপক্ষ বিকেলের পর গ্যাসের চাপ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
তিতাস গ্যাসের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমেছে। সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



