সাঘাটা (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
গাইবান্ধার সাঘাটায় যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। গত ২১ জুন উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে হামলার শিকার হন সালাউদ্দিন। একই ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নিহত হন। সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি তার বাবা সামছুল হোদা দুদু নিশ্চিত করেছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর রোকন ও উপজেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সাথে যুবদল নেতা মুকুলের কথাকাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে সবাই সেখান থেকে চলে যান।
এর প্রায় ১০ মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা-সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ ১০ থেকে ১৩ জন তাদের ওপর হামলা করেন। সালাউদ্দিনকে ছুরিকাঘাতের পর সাইফুল্লাহ এগিয়ে গেলে তাকেও ধাওয়া করে রাস্তায় ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। দু’জনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিলে সাইফুল্লাহ মারা যান। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সালাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। সাঘাটা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান আপেল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদাও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ ঘটনায় ২২ জুন সাঘাটা থানায় মামলা করেন নিহত সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদল মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম ও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।



