জুড়ী সীমান্তে পুশইনের শিকার ১০ জন বিজিবির হাতে আটক

Printed Edition

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জনকে অবৈধভাবে পুশইন (জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো) করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবি তাদের আটক করলেও এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর দুই পুরুষ, সাত নারী ও এক শিশুকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তাদের বাড়ি খুলনা বিভাগের নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সময়ে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে তারা গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন। সম্প্রতি সেখানে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বিএসএফের মাধ্যমে তাদের জুড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

আটকরা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বিজিবি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং রাতে বাসে তুলে দেয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলে। তবে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি। রাতের দিকে বিজিবির পাহারায় দু’টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাদের ফুলতলা সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে দিয়ে বিজিবি সদস্যরা চলে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের বড়লেখা অভিমুখে নিয়ে যান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮) এবং সাতক্ষীরা জেলার সালমা খাতুন (২৭)।

এ দিকে এই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিজিবির হাতে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক খোর্শেদ আলমের দাবি, পুশইনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি ৫২ বিজিবির অধিনায়কের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। এরপর তাকে পোস্টটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, পথে মোটরসাইকেলযোগে ব্যারিকেড দিয়ে তাকেও আটকের চেষ্টা করা হয়, যার ফলে তার মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায়। পরে তার এক পরিচিত যুবক মোটরসাইকেলটি নিয়ে ক্যাম্পে গেলে তাকেও আটকে রাখা হয়। ভোরে তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও সাংবাদিকের মোটরসাইকেলটি এখনো বিজিবি হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

জুড়ী সীমান্তে পুশইন ও সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান খান সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি জানান, সীমান্তে পুশইনের ব্যাপারে বিজিবির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সীমান্তজুড়ে বাহিনী সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।