ক্রীড়া প্রতিবেদক
পেশাদার লিগ কমিটির সভায় খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। কিন্তু এরপর বাফুফের ভিন্ন সিদ্ধান্ত। পরশু বাফুফে সাধারন সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ক্লাবগুলোকে জানানো হয় ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে না ফেডারেশন কাপের খেলা। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ইস্যু এবং ক্লাবগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাফুফে পিছিয়ে দেয় পুনরায় খেলা শুরুর দিন ক্ষণ। কবে এ খেলা শুরু হবে তা পরে জানাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। আগে বাফুফের লিগ কমিটির অভ্যাস ছিল হুট করেই খেলা পিছিয়ে দেয়া বা স্থগিত করাটা। পরে তা বন্ধও হয়েছিল। তবে এবার ফের সেই পুরনো সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। আর এতেই বেকাদায় পড়েছে ক্লাবগুলো।
এবারের লিগে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি থেকে ৫ পয়েন্ট পেছনে অবস্থান করছে ঢাকা আবাহনী। ক্লাবটি লিগের ফিরতি পর্ব শেষে ক্লাবটি অনুশীলনও শুরু করেছিল। কিন্তু এখন লিগ ও কাপ পিছিয়ে দেয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে আবাহনী। দলের ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু জানান, ‘লিগ কমিটির সভায় হলো এক সিদ্ধান্ত। কিন্তু পরে আরেক সিদ্ধান্ত। যদি দুই দিন আগেই যদি খেলা পেছানোর ঘোষণা দেয়া হতো তাহলে আর ক্যাম্প এখন শুরুই করতাম না।’ তার মতে, ‘এখন যেহেতু ক্যাম্প শুরুই করেছি তাই ক্যাম্পতো আর বন্ধ করতে পারছি না।’ জাতীয় দলের সাবেক ম্যানেজার আরো জানান, কবে খেলা শুরু হবে তা আমরা জানি না। তাই বলতেও পারছি না খেলার সময় বাড়ানো হলে আমাদের নতুন করে বিদেশীদের সাথে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে হবে কি না। মনে হয় ওই সময়ের মধ্যেই খেলা শেষ করার পরিকল্পনা আছে।’
ক্যাম্প শুরু করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নও। তবে তারা এখন আর ক্যাম্প অব্যাহত রাখছে না। ম্যানেজার আমের খানের মতে, কী বলবো এভাবে হঠাৎ খেলা বন্ধ হওয়ার প্রতিক্রিয়া। বুঝি না কিভাবে এ সিদ্ধান্ত হয়। কার নির্দেশে এসব ঘটনা ঘটছে। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান সভা শেষে স্পষ্ট করেই বললেন খেলা পেছানো হবে না। অথচ এখন ঠিকই খেলা পিছিয়ে গেল। উনি আরো বলেছিলেন, একমাত্র মোহামেডান ছাড়া অন্য কোনো ক্লাব খেলা পেছানোর আবেদন করেনি। তাহলে এখন ওই একটি ক্লাবের জন্য বাকি ক্লাবগুলোকে কেন ভুগতে হবে।’ আমের আরো জানান, আমরা দুই দিন হলো ক্যাম্প শুরু করেছি। এখন সব খেলোয়াড়কে ডেকে বলতে হচ্ছে ক্যাম্প বন্ধ করে ছুটি দেয়ার কথা।’ জাতীয় দলের এ ম্যানেজারের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, বাফুফের চিঠিতে উল্লেখ নেই কবে আবার খেলা শুরু হবে এবং শেষ হবে। ফলে আমরা এখন বলতে পারছি না কত দিনের জন্য নতুনভাবে খেলোয়াড়দের সাথে চুক্তি করবো। ক্ষোভের সাথেই আমের জানান, সাফ কোটা, বয়সভিত্তিক ফুটবলার এসব দিয়ে দেশী ফুটবলারদের ভাত মারা হয়েছে প্রথমে। এখন ক্লাবগুলোতে মারা হচ্ছে এ খেলা পিছিয়ে।’ আরো জানান, লিগ কমিটি থেকে সাফ কোটার খেলোয়াড়দের দেশী ফুটবলার হিসেবে চিহ্নিত করে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ এ ‘দেশী’রাই খেলতে পারবে না স্বাধীনতা কাপে।
ফর্টিসের ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘খেলা পেছানোর ফলে সমস্যাতো কম নয়। ক্যাম্পের সময় বাড়ানো, বিদেশীদের সাথে চুক্তির সময় বৃদ্ধি এবং এতে করে খরচের টাকা বেড়ে যাওয়া সব কিছুই জড়িত। যা ক্লাবগুলোকে বেকায়দায় ফেলেছে।’



