সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকা

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ২০২৫ সালে ৬৭২৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ৯১১১ ও আহত ১৪৮১২

  • গত বছরের চেয়ে নিহত বেড়েছে ৫.৭৯ শতাংশ

২০২৫ সালে ছয় হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ এ সড়কে দুর্ঘটনা ছয় দশমিক ৯৪ শতাংশ, নিহত পাঁচ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং আহত ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় দুই হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই হাজার ৯৮৩ জন নিহত ও দুই হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক শূন্য চার শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও আহতের ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এছাড়াও রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত ও ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। এতে করে সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট সাত হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত বছর সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ১৯০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এক হাজার ৬৯১ জন চালক, এক হাজার ২১৬ জন পথচারী, ৫৫১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৩২ জন শিক্ষার্থী, ১২৯ জন শিক্ষক, এক হাজার ৫৬ জন নারী, ৬২২ জন শিশু, ৬৯ জন সাংবাদিক, ১৫ জন চিকিৎসক, ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাঁচজন আইনজীবী ও ৯ জন প্রকৌশলী এবং ১৪১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।

এর মধ্যে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য, ২০ জন সেনাসদস্য, একজন নৌবাহিনী সদস্য, তিনজন আনসার সদস্য, দুই র‌্যাব সদস্য, দুইজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, তিনজন বিজিবি সদস্য, ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৪ জন সাংবাদিক, ৪১৫ জন নারী, ৫৪৬ জন শিশু, ৬৩৩ জন শিক্ষার্থী, ১২২ জন শিক্ষক, এক হাজার ৫৫৭ জন চালক, ২১৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯ জন প্রকৌশলী, পাঁচজন আইনজীবী, ১০৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ১৪ জন চিকিৎসক ও এক হাজার ১৪৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

এ সময়ে সংগঠিত দুর্ঘটনায় ১০ হাজার ২৮৮টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে, যার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাস, ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, পাঁচ দশমিক ৮৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, আট দশমিক ৩৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা, ২৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, পাঁচ দশমিক ৩৭ শতাংশ বিবিধ কারণে, শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁছিয়ে এবং শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংগঠিত দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭ দশমিক ১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে সংগঠিত হয়েছে। এছাড়াও দেশে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার চার দশমিক ২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়কের নীতি পরিবর্তন না হওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনা ও মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। যানজট ও চাঁদাবাজির বৃদ্ধির কারণে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া আরেক দফা বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহনখাত সংস্কার না করায় দেশের মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি, সড়কের নিরাপত্তা ও ভাড়া নৈরাজ্য পরিবহন মালিকদের ইচ্ছের বন্দিদশা থেকে মুক্তি মেলেনি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা ও উন্নত গণপরিবহনের অঙ্গীকার দাবি করেন তিনি।