৪ বছরেও শেষ হয়নি দেপাশাই সেতুর কাজ

Printed Edition
ধীর গতিতে চলছে সেতু নির্মাণের কাজ : নয়া দিগন্ত
ধীর গতিতে চলছে সেতু নির্মাণের কাজ : নয়া দিগন্ত

নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)

ঢাকার ধামরাই উপজেলার পশ্চিম দেপাশাই এলাকায় বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ প্রায় চার বছরেও শেষ হয়নি। ফলে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম একটি পুরনো সেতু। সেতুটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২২ সালের ৩১ মে সেটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ২৩ জুন।

প্রথম দফায় কাজ পায় মেসার্স কামার জান আনোয়ারা জেবি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে তারা পুরোনো সেতু ভেঙে কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না করে সরে যায়। পরে পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর আবার ছয় কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে নতুন চুক্তিতে কাজ পায় মেসার্স উপকূল করপোরেশন।

বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পের কাজ এখনো ৬০ শতাংশই শেষ হয়নি। কাজের গতি এতটাই ধীর যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটি চালু হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নির্মাণকাজের জন্য ব্যবহৃত কিছু রডে ইতোমধ্যে মরিচা ধরেছে। এতে সেতুর নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি না থাকায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজকর্মে অচলাচস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলাচলের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিলেও সেটি চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই সেখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা।

নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে, তাতে দ্রুত প্রকল্প শেষ করা কঠিন। কাজের গতি বাড়াতে হলে আরো শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, প্রাকৃতিক ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা।