কলাপাড়ায় অপ্রশস্ত কালভার্টে বন্ধ খালের পানি প্রবাহ

কৃষিতে ভয়াবহ সঙ্কট, দখল-দূষণে বিপর্যস্ত পরিবেশ

Printed Edition
কলাপাড়ায় অপ্রশস্ত কালভার্ট : নয়া দিগন্ত
কলাপাড়ায় অপ্রশস্ত কালভার্ট : নয়া দিগন্ত

এইচ এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও খাল দখলের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে শতাধিক খালের পানি প্রবাহ। এতে করে কৃষিকাজে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সঙ্কট, হুমকিতে পড়েছে পরিবেশও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী-খাল রক্ষা ছাড়া পরিবেশ ও কৃষি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। অপ্রশস্ত কালভার্ট ভেঙে খালের প্রকৃত প্রস্থ অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ ও খাল পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তারা।

সরকারি অর্থায়নে অনেক খালের ওপর মাত্র ১৫-৩০ ফুট প্রশস্ত কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে খালের প্রস্থ ছিল ৭০ থেকে ১০০ ফুট। এর ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী খাল, চিংগুরিয়া খাল, চাকামইয়া-নিশানবাড়িয়া খালসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সøুইস সংযুক্ত খাল এখন প্রায় মরা খালে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, খালগুলোর ওপর কালভার্ট নির্মাণ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচলের পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানির সঙ্কটে পড়ছেন কৃষকরা। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাদুরতলীর খালটি প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২০০ থেকে ৩৫০ ফুট প্রশস্ত। অথচ এখানে মাত্র ২০-৩০ ফুট প্রশস্ত কালভার্ট নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা বাড়ি, দোকানপাট, এমনকি পুকুর পর্যন্ত। স্থানীয় কৃষক সুলতান গাজী বলেন, একটি বড় গার্ডার ব্রিজ দিলে পানি প্রবাহ ঠিক থাকত। কিন্তু ছোট ছোট কালভার্ট দিয়ে সমস্যা আরো বাড়ানো হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’-এর কলাপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, দখল ও দূষণে খালগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বারবার দাবি জানিয়েও কোনো টেকসই সমাধান আসছে না। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, খাল মরে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এখনই খাল উদ্ধার প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, খালে বাধা সৃষ্টি হলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি চলাচল নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, গত ছয় মাসে অর্ধশতাধিক অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। পানি প্রবাহ সচল রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন থেকে যেকোনো প্রকল্পের আগে কৃষকদের মতামত নেয়া হচ্ছে।