আব্দুল হাকিম ডালিম পীরগঞ্জ (রংপুর)
দেশের উত্তরাঞ্চলে আমদানিনির্ভর আঙুরের ঘাটতি পূরণে বাণিজ্যিকভাবে পরীক্ষামূলক চাষে অভাবনীয় সাফল্যের স্বপ্ন বুনছেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহীদ মিয়া মেজবাউদ্দিন। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিলনপুর গ্রামে অবস্থিত তার ‘আব্দুল্লাহ নার্সারি’ এখন উত্তরের জনপদে আঙুর চাষের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের উপকণ্ঠে ১ একর ২০ শতাংশ জমির একটি অংশে বর্তমানে ২৪ শতাংশ জমিতে উন্নত জাতের আঙুর চাষ করেছেন মেজবাউদ্দিন। তার বাগানে বাইকুনুর, জয়নীডলেন্স, জার্মান গোল্ড, ব্ল্যাক ম্যাজিক ও জার্মানি লং-এর মতো উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন আঙুরের সমারোহ। চারা রোপণের মাত্র আট মাসের মাথায় প্রতিটি গাছের গিরায় গিরায় ও ঝোপায় ঝোপায় আশাতীত ফলন দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে প্রায় তিন হাজার ৫০০ কেজি আঙুর উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন এই উদ্যোক্তা।
তাওহীদ মিয়া জানান, উত্তরের জলবায়ুতে উপযোগী লম্বা-সরু ও সুস্বাদু এসব জাতের চাষ কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ২৪ শতাংশ জমিতে ৩৫০টি আঙুর গাছ রয়েছে। গাছের বাড়তি কাণ্ড থেকে তিনি ইতিমধ্যেই এক হাজার ২০০ চারা তৈরি করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। তার পরিকল্পনা হলো, বাগান সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামীতে এক লাখ চারা প্রস্তুত করা, যা দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে আঙুর চাষ সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে এই চাষ ছড়িয়ে পড়লে এ অঞ্চল থেকে বছরে প্রায় ২৪০ মেট্রিক টন আঙুর উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
আগামী মে মাসের শেষ দিকে বাগান থেকে আঙুর সংগ্রহ শুরু হবে। ২০১৮ সালে স্বল্প পরিসরে নার্সারি শুরু করা তাওহীদ এখন আম, লিচু ও বিভিন্ন সবজির উন্নত চারাও তৈরি করছেন। তবে তার প্রধান লক্ষ্য বেকার যুবকদের মাঝে আঙুর চাষ ছড়িয়ে দিয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমদ বলেন, মিলনপুর গ্রামের এই বাগানে আঙুরের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আঙুরগুলো যদি মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়, তবে উত্তরাঞ্চলে আঙুর চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং এটি দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।



