রাজবাড়ীতে যুবলীগ ও সাভারে ছাত্রদল নেতা নিহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

রাজবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা এবং সাভারে পুলিশের অভিযানকালে এক ছাত্রদল নেতা পাঁচতলা থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে শরীফুল ইসলাম হিরা (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত হয়েছে। পরে পুলিশ জনতার সহায়তায় হীরার ঘাতক কামরুলকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ শহরের কাজীপাড়া তোরাই মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শরীফুল ইসলাম হিরা গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের বহাদুরপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত্য জাবেদ আলীর ছেলে। সে আওয়ামী যুব লীগের গোয়ালন্দ পৌর কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম ও কামরুল পরস্পরের বন্ধু ছিলেন। কামরুল গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে গোয়ালন্দ বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শরিফুল। পথে তোরাই মোড় এলাকায় পৌঁছালে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে কামরুল ছুরি নিয়ে হামলা করেন। এতে শরিফুল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত গোয়ালন্দ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিমৃত ঘোষণা করেন।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অর্থের লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভারের পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপিত মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নিহতের ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি বলেনয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার (ওসি) মো: সাইফুল আলম। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী বিপিএটিসির নৈশপ্রহরী জাফর মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সাথে বিপিএটিসির একটি পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোয়ারুলের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিক প্রেমের স¤পর্কের সূত্র ধরে গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা থেকে মিম নামে এক কিশোরীকে নিয়ে সাভারে নানার বাসায় আসেন। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে একটি দল সাভারে আসে। পরে সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশ মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বাবাসহ ভবনের ছাদে উঠার সময় দু-তিনজন পুলিশ আগেই পাঁচতলায় উঠে যায়। তখন চারতলা থেকে একটি বিকট শব্দ পেয়ে তারা দ্রুত নিচে নেমে আসে। নিচে আসার পর দেখেন মনোয়ার নিচে পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। একটি সূত্র জানায় অভিযানের সময় সৌমিক ও ওই কিশোরীকে বাসায় পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার নয়া দিগন্তকে জানান, পীরগাছার পুলিশ এ ঘটনার পর রাতে দ্রুত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল দ্রুত ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় সাভার থানা পুলিশকে কোনো ধরনের ইনফর্ম না করে পীরগাছা যাওয়াটা এক ধরনের ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। আশা রাখি তদন্তে প্রকৃত কারন উঠে আসবে। তিনি নয়া দিগন্তকে আরো বলেন, পীরগাছার স্থানীয়দের বরাতে জানতে পেরেছেন স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে রেখেছেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম আরো বলেন, পীরগাছা থানার পুলিশের অভিযানে সহায়তার জন্য নিয়ম অনুযায়ী সাভার থানা থেকে পুলিশ সদস্য দেয়া হয়েছিল। সাভার থানার সদস্যরা ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। মনোয়ারুল কিভাবে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।