মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর প্রতীক বরাদ্দ হলেও এখনো আসন সমঝোতা শেষ করতে পারেনি ১০ দলীয় জোট। বেশ কিছু আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে দলগুলোর মধ্যে এখনো অসন্তোষ রয়েই গেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় সমঝোতার জোট গঠিত হয়। এর মধ্যে গত ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হয়ে গেছে। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি ২৫৩ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।’ ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এলডিপি ৭, নেজামে ইসলাম পার্টি ২, এবি পার্টি ৩ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন দেয়া হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ায় বাকি ৪৭ আসন বণ্টন নিয়ে আবারো দফায় দফায় বৈঠক করে ১০ দলের লিয়াজোঁ কমিটি। পরে শীর্ষ নেতারাও বৈঠক করেন। তবে কোনোভাবেই ৩০০ আসনে একক প্রার্থী বাছাই করতে পারেননি নেতারা। জোটগতভাবে নির্ধারিত আসনের বাইরেও বেশকিছু আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলগুলো।
জানা যায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোটগতভাবে ২৩টি আসন পেয়েছে। তবে ২৯টি সংসদীয় আসনে রিকশা প্রতীকের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। বাকিগুলো থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। ফলে জোটগতভাবে থাকার পরও দলটি ৬টি বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এ ৬টি আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিস, মৌলভীবাজার-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি, ফেনী-২ আসনে এবি পার্টি এবং ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সাথে উন্মুক্ত ভিত্তিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
একইভাবে খেলাফত মজলিস জোটগতভাবে ১২টি আসন পেলেও তারাও আরো অতিরিক্ত ৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। দলটি জানিয়েছে তাদের মোট ৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। সেখান থেকে অর্ধশতাধিক আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াত কার্যালয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা করা হয়। অন্যান্য দলগুলোর সাথে আরো আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। জোট সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী ২১৫ আসনে, এনসিপি ৩০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৪টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি ও খেলাফত আন্দোলন একটি আসনে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, বেশির ভাগ আসনেই সমাধান হয়ে গেছে। কয়েকটি আসনে এখনো সমাধান হয়নি। আলোচনা এখনো চলমান। সমাধানের চেষ্টা চলছে। একান্ত না হলে অল্প কয়েকটি আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের ১২টি আসন দেয়া হয়েছে। এর বাইরে আরো ৫টি আসনে আমাদের ভালো প্রার্থী রয়েছে। এগুলোও আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্যান্য দল সেভাবে ছাড় না দেয়ায় আমরাও প্রার্থী দিয়েছি। নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার বলেন, আমাদের তিনটি আসনে কোনো সমস্যা নেই। এগুলোতে আমরা ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করব।



