ইকবাল কবীর মোহন
প্রতি বছর ঘুরে আসে ডসিম্বের মাস। এ মাস বাংলাদশেী মানুষরে বজিয় র্অজনরে মাস। মুক্তি লাভরে মাস। এ মাসরে ১৬ তারখি আমরা স্বাধীনতা র্অজন কর।ি র্দীঘ ৯ মাসরে রক্তাক্ত লড়াইয়রে মাধ্যমে বাংলার আকাশে পতপত করে উড়ে মহান স্বাধীনতার পতাকা। তাই ১৬ ডসিম্বের আমাদরে মহান গৌরব ও অহঙ্কাররে মাস। এ দনি পশ্চমিা পাক সনোদরে সকল অত্যাচার, শোষণ ও নপিীড়নরে হাত থকেে এ দশেরে মানুষরে মুক্তি র্অজতি হয়। আমরা লাভ করি আলাদা ভূখন্ড। লাল-সবুজরে আলাদা পতাকা ও শাসনরে নজিস্ব অধকিার। তাই প্রতি বছর ১৬ ডসিম্বের এলে আমাদরে দশেরে শশিু-কশিোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমকি ও মহেনতি মানুষরে কণ্ঠে কণ্ঠে বজেে ওঠে স্বাধীনতা ও মুক্তরি গান।
আমরা বহুকাল ধরে স্বাধীন জাতি হসিবেে বঁেচছেলিাম। আমাদরে সবুজ শ্যামল এই দশে সুখ-শান্ত,ি আনন্দ-গান, খাদ্য ও সম্পদে ভরপুর ছলি। আমাদরে র্পূবপুরুষরা এই বাংলার মাটতিে ‘গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু’-এই অহঙ্কার নয়িে আনন্দ-হাসতিে বসবাস করত। তবে এই সুখরে দনিগুলো একসময় বদিশেী হায়নোর কবলে পড়ে ফকিে হয়ে গলে। আমাদরে র্পূবপুরুষরা তাদরে স্বাধীনতার স্বাদ হারাল বদিশেী প্রভুদরে ষড়যন্ত্ররে কবলে পড়।ে সইে এক র্দীঘ ইতহিাস। আমাদরে বপিুল সম্পদ ও সুখরে আস্তানা দখেে ইংরজে হায়নোরা প্রলুব্ধ হলো। তারা ব্যবসায়রে নাম করে আমাদরে দশেে ঘাঁটি গড়েে বসল। সুযোগ বুঝে ইংরজেরা ১৭৫৭ সালে আমাদরে স্বাধীনতার ওপর আঁচড় বসাল। ফলে পলাশীর আম্রকাননে অস্তমতি হলো আমাদরে স্বাধীনতার র্সূয। এ দশেরে সরলপ্রাণ ও স্বাধীন মানুষ নজি দশেইে পরাধীন হয়ে পড়ল।
এই পরাধীনতার বড়োজালে পড়ে এ দশেরে মানুষ র্দীঘকাল ইংরজে শাসনরে কবলে শোষতি হলো। ইংরজেরা প্রথমে বাংলা অঞ্চল এবং পরে গোটা ভারতকে পদানত করে শোষণরে শাসন জারি করল। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে আমাদরে জাতরি সব স্বাচ্ছন্দ্য ধুলোয় মশিয়িে দলিো। ফলে এ দশেরে মানুষ হারাল তাদরে অতীতরে গৌরব। প্রায় ২০০ বছর ইংরজেরা শোষণ ও শাসনরে জাঁতাকলে আমাদরে জাতকিে নঃিস্ব করে ফলেল। এ অবস্থায় দশেরে মানুষরে প্রচণ্ড ক্ষোভ-বক্ষিোভ ও রক্তাক্ত প্রতরিোধরে মুখে ইংরজেরা অবশষেে হার মানল। তারা ১৯৪৭ সালে দশেরে অধীনতা ছড়েে চলে যতেে বাধ্য হলো। ফলে স্বাধীনতার সোনালি ভোররে আবারো অভ্যুদয় হলো। স্বাধীনতা লাভ করা আগে ইংরজেরা ভারতীয় উপমহাদশেকে দু’ভাগে বভিক্ত করার ছক এঁকছেলি। এই দুই ভাগ ছলি পাকস্তিান ও ভারত-যা ইন্ডয়িা নামে পরচিতি। এর আগইে তারা বভিক্ত করল বাংলা ও পাঞ্জাবক।ে দুঃখজনক হলো- পাকস্তিানে সুকৌশলে যুক্ত করা হলো বভিক্ত বাংলার একাংশ র্পূব বাংলাক।ে পাকস্তিান দুটো ভাগে বভিক্ত হলো। এর এক ভাগ ছলি পশ্চমি পাকস্তিান, অন্য ভাগ র্পূব পাকস্তিান। আমরা র্পূব পাকস্তিানরে মধ্যে অর্ন্তভুক্ত হয়ে গলোম।
এভাবে পাকস্তিানরে অধীনে যে স্বাধীনতা আমরা পলোম তা নয়িে এ দশেরে মানুষ উচ্ছ্বসতি হলওে এই স্বাধীনতার ফল ভালো হলো না। শুরু থকেইে আমরা নানাভাবে বষৈম্যরে শকিার হতে লাগলাম। প্রথমত ভৌগোলকিভাবে পাকস্তিানরে দুই অংশরে মধ্যে বভিাজন তরৈি করা হলো। পশ্চমি পাকস্তিান ও র্পূব পাকস্তিানরে মধ্যে দড়ে হাজার মাইলরে ব্যবধান ছলি। মাঝখানে ছলি ভারত। তাই কৌশলগতভাবে এই ব্যবধান ইংরজেরা তরৈি করল এ জন্য য,ে যাতে আমাদরে স্বাধীনতা যকেোনো সময় হুমকরি মুখে পড়তে পার।ে এরপরও স্বাধীনতার পর থকেে পশ্চমি পাকস্তিানরে শাসকরা কন্দ্রেীয়ভাবে নতেৃত্বে থাকায় এই এলাকার মানুষ অধকিার বষিয়ে প্রতারতি হতে লাগল।
একটি বষিয় ছলি লক্ষণীয়, দশে ভাগ হওয়ার পর রাষ্ট্ররে ভাষাগত বরিোধে দুই অংশ জড়য়িে পড়ল। স্বাধীনতার সময়কালে গোটা পাকস্তিানরে জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ছলি বাংলাভাষী। পশ্চমি পাকস্তিানরে জনসংখ্যা কম ছলি এবং তাদরে জনসংখ্যার মধ্যে নানা ভাষার প্রচলন ছলি। এর মধ্যে র্উদু ছলি অন্যতম একটি ভাষা। উল্লখ্যে, শাসক শ্রণেীর লোকরো ছলি র্উদুভাষী। তাই যখন রাষ্ট্রভাষা নর্ধিারণরে প্রশ্ন এলো তখন পশ্চমিা শাসকরা র্উদুকে রাষ্ট্রভাষা করার পাঁয়তারা করল। এমনকি এই ভাষা সংখ্যাগরষ্ঠি বাংলাভাষীর ওপর চাপয়িে দতিে চাইল। দশে স্বাধীন হওয়ার পর থকেইে ভাষা নয়িে এই ষড়যন্ত্র শুরু হলো।
পশ্চমি পাকস্তিানরে শাসকদরে এই ষড়যন্ত্ররে বরিুদ্ধে প্রতবিাদ ও প্রতরিোধ শুরু করল এ দশেরে জনগণ। স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৪৮ সালে প্রথম শুরু হলো ভাষা আন্দোলন। এ দশেরে মানুষরে ভাষার এই লড়াই দনি দনি তীব্র হয়ে উঠল। ১৯৫২ সালরে ২১ ফব্রেুয়ারি ভাষার লড়াই রক্তাক্ত পরণিতি লাভ করল। এ দনি রফকি, বরকত, সালাম, শফকিসহ আরো অনকে মানুষরে রক্তরে বনিমিয়ে বাংলা ভাষার দাবি প্রতষ্ঠিা পলে। ভাষার জন্য এই লড়াই ছলি দুনয়িার ইতহিাসে একটি বরিল ঘটনা। আজ সারা বশি^ে ২১ ফব্রেুয়ারি পালতি হয় আর্ন্তজাতকি মাতৃভাষা দবিস হসিবে।ে এই ভাষা জাতসিঙ্ঘরে স্বীকৃতি লাভ করছে।ে
১৯৫২ সালে পাক শাসনরে বরিুদ্ধে ভাষার লড়াই শষে হলওে আমাদরে দশেরে বপিক্ষে পাক শাসকরা ষড়যন্ত্র চালয়িে গলে। তারা চরম শাসন ও শোষণরে পথ বছেে নলিো। রাজনতৈকি, সামাজকি, র্অথনতৈকি, শক্ষিা ও চাকররি ক্ষত্রেে আমরা যমেন বষৈম্যরে শকিার হলাম, তমেনি র্অথনতৈকি বণ্টন ও বরাদ্দরে বলোয় আমরা শোষণরে কবলে পড়লাম। এরই প্রক্ষোপটে র্পূব পাকস্তিানরে মানুষরে মধ্যে পাক শাসনরে বরিুদ্ধে পরম ক্ষোভ ও ঘৃণার আগুন দানা বাধতে লাগল। ফলে নানা ক্ষোভ-বক্ষিোভ, প্রতবিাদ ও প্রতরিোধে এ দশেরে রাজপথ কঁেপে উঠতে লাগল। এরপর আপামর জনতার দাবি ও ক্ষোভরে মুখে ১৯৭০ সালে পাকস্তিানে জাতীয় পরষিদ নর্বিাচন অনুষ্ঠতি হলো। এই নর্বিাচনে সংখ্যাগরষ্ঠিতা লাভ করল আওয়ামী লীগ। কন্তিু পাক শাসকরা দলটরি নতো বঙ্গবন্ধু শখে মুজবিুর রহমানরে হাতে শাসনক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি হলো না; বরং এই সাংবধিানকি অধকিার নস্যাৎ করে পাক সরকার সর্ম্পূণ অন্যায়ভাবে ১৯৭১ সালরে ২৫ র্মাচ কালো রাতে এ দশেরে মানুষরে ওপর হংিস্র দানবরে মতো আক্রমণ শুরু কর।ে রাতইে ঢাকাসহ সারা দশেরে বভিন্নি শহরে হাজারো নরিস্ত্র মানুষকে পাক সনোরা হত্যা কর।ে
এই অবস্থায় দশেরে ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমকি, সনো, পুলশিসহ সাধারণ জনগণ তীব্র প্রতরিোধে ঝাঁপয়িে পড়।ে শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। মুক্তরি এই লড়াইয়ে এ দশেরে মানুষ প্রাণপণে যুদ্ধ কর।ে আমাদরে দশেরে জনগণরে একটি অংশ পাক হানাদার বাহনিীর ভয়ে র্পাশ্বর্বতী দশে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ কর।ে তখন পুরো দশেকে ১১টি সক্টেরে ভাগ করে ১১ জন সক্টের কমান্ডাররে অধীনে পরচিালতি হয় মুক্তযিুদ্ধ। এই লড়াই চলে র্দীঘ ৯ মাস। এ সময়কালে দশেরে ৩০ লাখ লোক জীবন দান কর।ে জাতরি র্সূযসনোদরে তীব্র লড়াই ও শহীদরে বনিমিয়ে মুক্তযিুদ্ধরে লড়াই শষে হয় ১৯৭১ সালরে ১৬ ডসিম্বের। এর আগে ১৫ ডসিম্বের পাকস্তিানরে প্রসেডিন্টে জনোরলে ইয়াহয়িা যুদ্ধ বন্ধ করার ঘোষণা দনে। ফলে ১৬ ডসিম্বের সকালে মুক্তবিাহনিীসহ যৌথবাহনিী বজিয়রে গৌরব নয়িে রাজধানী ঢাকায় প্রবশে কর।ে বকিলেে পাক সনোদরে আত্মসর্মপণরে মধ্য দয়িে ওই দনিইে পৃথবিীর মানচত্রিে স্বাধীন র্সাবভৌম বাংলাদশে যুক্ত হয়। ১৬ ডসিম্বের দশেরে মানুষ মুক্তরি স্বাদ নয়িে আনন্দ-উল্লাসে ফটেে পড়।ে দশেরে র্সবত্র পতপত করে উড়ে স্বাধীনতার নতুন পতাকা।
এরপর থকেে প্রতি বছর ১৬ ডসিম্বের দশেে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসমুখর পরবিশেে বজিয় দবিস পালতি হয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এবাররে বজিয় দবিস একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে পালতি হব।ে গত বছররে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার একটি বপ্লিবরে মধ্য দয়িে বাংলাদশে একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবশে কর।ে ওই বছরও বজিয় দবিস পালতি হয়ছেলি নতুন আঙ্গকি,ে নব উদ্দীপনায়। স্বরৈাচারমুক্ত পরবিশেে দশেরে সব মানুষরে অংশগ্রহণে গতবাররে বজিয় দবিস ছলি সর্ম্পূণ আলাদা। সব রাজনতৈকি দল ও সংগঠন বপ্লিোবোত্তর বাংলাদশেকে র্দুনীত,ি স্বরৈাচার ও দমন-পীড়ন মুক্ত একটি দশে গড়ার প্রত্যয় নয়িে বজিয় দবিসরে উল্লাসে অংশগ্রহণ করছেলি। এবাররে বজিয় দবিসে মানুষ স্বরৈাচারী গণশত্রুর বচিার, সংস্কার ও সুষ্ঠু নর্বিাচনরে প্রত্যাশা ও শপথ নয়িে পালন করতে যাচ্ছ।ে স্বাধীন বাংলাদশেরে আগস্ট দ্বতিীয় বপ্লিবে মানুষ যে আকাক্সক্ষা নয়িে অংশগ্রহণ করছেলি এবং একটি ফ্যাসস্টি সরকাররে পতন ঘটয়িছেলি, যাতে পুর্নবার ফ্যাসস্টিরে আগমন না ঘট-ে এই প্রত্যয়ই হবে এবাররে বজিয় দবিসরে অঙ্গীকার। র্বতমানে দশেরে সব শ্রণেী ও পশোর মানুষ প্রত্যাশা কর,ে আগামীর স্বাধীন বাংলাদশে হবে র্দুনীতমিুক্ত, ন্যায়বচিার-বান্ধব, রাজনতৈকি সংহতি ও সঙ্গতরি একটি বাংলাদশে, যখোনে মানুষরে ওপর জুলুম ও শোষণরে পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। সম্প্রতি সব দলরে সম্মততিে স্বাক্ষরতি জুলাই সনদ বাস্তবায়নরে মধ্য দয়িে বাংলাদশে একটি সুন্দর সমৃদ্ধশালী দশে হসিবেে এগয়িে যাব-ে এই প্রত্যাশাই করে দশেরে প্রতটিি মানুষ। এবাররে বজিয় দবিসে আমরা সবাই এই শপথ গ্রহণ করব ইনশাআল্লøাহ। আগামীর বাংলাদশে হোক র্দুনীত,ি শোষণ, স্বরৈাচার এবং বচিারহীনতার অভশিাপমুক্ত।



