গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো ১৯ লাশ উদ্ধার

Printed Edition
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছে ‘দোতান ভ্যালি’ নামক নতুন ইসরাইলি বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে বুলডোজার দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে  : ইন্টারনেট
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছে ‘দোতান ভ্যালি’ নামক নতুন ইসরাইলি বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে বুলডোজার দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর নিচ থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। সর্বশেষ গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ লাশ উদ্ধার করেছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। ভারী যন্ত্রপাতির সঙ্কটে মূলত হাতের সাহায্যেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। শনিবার চার দিনের উদ্ধার অভিযান শেষে ‘কারাম’ নামে ওই ভবন থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজ তদারককারী মোহাম্মদ আবু দান জানান, গাজার পশ্চিমাঞ্চলের ‘কারাম’ ভবনে টানা চার দিন তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এখন বিশেষায়িত চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধারকারী দল গাজা সিটির অন্য একটি স্থানে যাবে এবং সেখানে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শুরু করবে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছেন, ভারী কংক্রিটের স্ল্যাব সরানোর মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধারকারীরা বর্তমানে সাধারণ ও অপ্রতুল সরঞ্জাম ব্যবহার করে এবং প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। এসব ধ্বংসস্তূপ ইসরাইলি হামলার পর সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, পুরো ভূখণ্ডে এখনো আট হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৬

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত আরো দুই ব্যক্তির লাশ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরো আটজন। গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ২৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত ও চার হাজার ১৩৯ জন আহত হয়েছেন। একইসাথে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮০৭টি লাশ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৬ এবং আহত এক লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিমতীরে অভিযান, বাড়ি দখল ও অগ্নিসংযোগ

এদিকে পশ্চিমতীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। রোববার হেবরনের ইজনায় এক ফিলিস্তিনি রাখাল ও তার ভেড়ার পাল লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে কয়েকটি ভেড়া নিহত হয়। জেনিনের আরাবা শহরে এক ফিলিস্তিনির বাড়ি দখল করে সেটিকে সামরিক সদর দফতর হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইলি বাহিনী। রামাল্লার সিনজিল এলাকায় অভিযানে দুই ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি মুহাম্মদ আবদুর রহমান আল-জাব্বারিনের বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে।

এদিকে পশ্চিমতীরে ৬২৭টি নতুন আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের উপনিবেশ স্থাপন ও প্রাচীর প্রতিরোধ কমিশন (সিআরআরসি) জানিয়েছে, রামাল্লা ও আল-বিরেহ গভর্নরেটের কখাভ ইয়াকভ বসতিতে এসব ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির আয়তন প্রায় ২৫৩ দশমিক ৭ ডুনাম। কমিশনের দাবি, এর মাধ্যমে জেরুসালেম ও আশপাশের ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা আরো বাড়বে। জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। ২০১৬ সালের জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবেও এসব বসতির কোনো আইনগত বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ দক্ষিণ গাজার রাফাহর পূর্বাঞ্চলে সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি আবাসন প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম।