সপ্তাহের শেষ দিনে পুঁজিবাজারে আশার আলো

মর্টগেজ ফাইন্যান্স কোম্পানি নিয়ে বিএসইসি বিশ^ব্যাংক বৈঠক

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

নেতিবাচক আচরণ থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। আগস্ট মাসের শুরু থেকে পুঁজিবাজারে পতনের যে ধারাবাহিকতা তা অব্যাহত ছিল গত সপ্তাহেও। এ সময় দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের পাশাপাশি অবনতি ঘটেছে লেনদেনেরও। ক’দিন আগেও বাজার নিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল দেশের দুই পুঁজিবাজারের হালের আচরণের ফলে তা হতাশায় রূপ নিতে বসেছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ৯৭ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। রোববার ৫ হাজার ৮৮৩ দশমিক ৯১ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার সপ্তাহান্তে নেমে আসে ৫ হাজার ৭৮৬ দশমিক ০৮ পয়েন্টে। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে ২০০ পয়েন্টের বেশি অবনতি ঘটে ডিএসইর এ প্রধান সূচকটির। সপ্তাহটিতে ডিএসইর বিশেষায়িত দুই সূচকও অবনতির শিকার হয়। গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ৩০ দশমিক ২১ ও ২১ দশমিক ০৩ পয়েন্ট।

সূচকের এ অবনতির প্রভাব ছিল ডিএসইর সপ্তাহিক লেনদেনেও। গত সপ্তাহে ডিএসই মোট ৪ হাজার ৫২৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৯ দশমিক ২১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে বাজারটির লেনদেন ছিল ৪ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। একই হারে হ্রাস পেয়েছে বাজারটির গড় লেনদেনও। গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৯০৫ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৯ দশমিক ২১ শতাংশ কম। ওই সপ্তাহটিতে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ৯৯৭ কোটি টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেড় যুগেরও বেশি সময় নানা অব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে এসে সম্প্রতি পুঁজিবাজার কিছুটা ভালো অবস্থানে পৌঁছার পথে ছিল। আর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বাজারে টানা মন্দার পদধ্বনি বিনিয়োগকারীদের বাজার বিমুখ করে তুলতে পারে। এমনিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া কিছু সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের পুঁজির বেশির ভাগই নেই হয়ে গেছে। বাজার ভালো হবে, নতুন সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে দেয়া এই আশাবাদ তাদের খাদের কিনারা থেকে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি জোগালেও বাজারের সাম্প্রতিক আচরণে তাও ভেস্তে যেতে বসেছে।

আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও প্রায় পুরোটা সময় ধরেই বিক্রয়চাপে পর্যুদস্ত ছিল পুঁজিবাজার। বরাবরই সবগুলো কর্মদিবসে সূচকের বড় উন্নতিতে লেনদেন শুরু হলেও লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্টি হওয়া বিক্রয়চাপ দিনশেষে পতন ঘটায় সূচকের। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এসে লেনদেনের শেষমুহূর্তে হারানো সূচকের সামান্যই ফিরে পায় বাজারগুলো। এর মধ্যেও কিছু কিছু খাতে বিনিয়োগকারীরা কমবেশি মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হলেও বেশির ভাগেই ক্ষতির মুখে ছিল তারা। তাই আগামী সপ্তাহটি কেমন যাবে তা নিয়ে বেশ হতাশ বিনিয়োগকারীরা।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। সপ্তাহের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এ ছাড়া কাগজ খাতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, সিরামিক খাথতে ৩ দশথমিক ৫ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে একমাত্র ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা খাতে, দশমিক ২ শতাংশ।

এ দিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন সভাকক্ষে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সাথে বাংলাদেশে একটি মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি (এমআরসি) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান সভাপতিত্ব করেন। বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, সিপিএ, নাহিদ মাহতাব, মো: নাফিজ আল তারিক, সিএফএ, এফআরএম এবং হোসেন সাদাত, এফসিএসসহ নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: আবুল কালাম, নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অন্যান্য কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। অপর দিকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি (এমআরসি) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা, এর সম্ভাব্য কাঠামো এবং দেশের আবাসন অর্থায়ন ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পুনঃঅর্থায়ন প্রদানের মাধ্যমে প্রাথমিক বন্ধকী ঋণ বাজারকে আরো বিস্তৃত করা এবং আবাসন অর্থায়নে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়ন সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে পারে, এ বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশে একটি মর্টগেজ রিফাইন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।