নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৭ লাখ মানুষ চরম মানবিক সঙ্কটের মধ্যে জীবনযাপন করছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, গাজার প্রায় ১,৬০০টি বাস্তুচ্যুত মানুষের বসতি এলাকা নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, সেখানে বসবাসরত মানুষেরা অত্যন্ত নাজুক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
জরিপ অনুযায়ী, অন্তত ৫৯ হাজার আশ্রয়কেন্দ্রে আটজনের বেশি মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছে। প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। প্রায় ৬ লাখ মানুষের নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। অর্ধেক এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনুপস্থিত এবং প্রায় অর্ধেক আশ্রয়স্থল অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাসকারী ২৫০টির মতো স্থাপনায় বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে।
প্রয়োজনের এক-তৃতীয়াংশও পৌঁছায়নি ত্রাণ
গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় অঞ্চলটি ‘নীরব দুর্ভিক্ষের’ মুখোমুখি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিনের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজিজা আল-কাহলুত জানান, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সেবার সঙ্কট দিন দিন গভীর হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত গাজায় মাত্র ১৪ হাজার ২৪২টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি ট্রাক প্রবেশ করার কথা ছিল, যা একই সময়ে প্রায় ৪৫ হাজার ট্রাকের সমান। অর্থাৎ প্রত্যাশিত সহায়তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম গাজায় পৌঁছেছে।
চিকিৎসার অপেক্ষায় ২০ হাজারের বেশি আহত মানুষ
গাজায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ধসে পড়ার মুখে এবং ২০ হাজারের বেশি আহত ব্যক্তি জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সরকার। পশ্চিমতীরের রামাল্লায় অনুষ্ঠিত সরকারের সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেয়ার কারণে গাজার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। এতে আহত ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং হাজারো মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।



