সাক্ষাৎকারে জামায়াতের প্রার্থী কামাল হোসেন

যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition

নির্বাচিত হলে যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদকে চাঁদাবাজমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। দাঁড়িপাল্লা মার্কায় নির্বাচন করছেন তিনি। নয়া দিগন্তকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার পাশাপাশি উন্নয়ন ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন।

নয়া দিগন্ত : আপনার দৃষ্টিতে আপনার নির্বাচনী এলাকার সমস্যা কী কী?

কামাল হোসেন : এলাকায় চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারসহ এলাকার ছোট থেকে বড় সবধরনের ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, জলাবদ্ধতা, সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তা, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব, খেলার মাঠ নেই, কলকারখানা ও ময়লার ভাগাড়ের বিষাক্ত গ্যাসে পরিবেশদূষণসহ নানা সমস্যা রয়েছে এ এলাকায়।

নয়া দিগন্ত : এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট কারা?

কামাল হোসেন : আগে আওয়ামী লীগের এমপি ও কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলাকার থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা সিন্ডিকেট করে চাঁদা তুলত। এখন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা চাঁদা তুলছে। মানুষ চাঁদা দিতে চায় না। কিন্তু তাদের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। প্রাণের ভয়ে মানুষ চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত : নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে আপনি কী কী পদক্ষেপ নেবেন?

কামাল হোসেন : প্রথমেই কাজ হবে চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি, চাঁদাবাজির শিকার না হন সে জন্য সবাইকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। যার যার পরিশ্রমের উপার্জন তিনি ও তার পরিবার ভোগ করবে, বাইরে থেকে কেউ জোর করে তার রক্ত পানি করা উপার্জন আমরা কেড়ে নিতে দেবো না। মানুষও চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চায়। আমরা ন্যায়ের শাসন কায়েম করতে চাই। এ ছাড়া এলাকার পরিবেশদূষণ রোধে উদ্যোগ নিতে চাই। এ জন্য কলকারখানাগুলো যাতে পরিবেশসম্মতভাবে উৎপাদন করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এলাকার উন্নতমানের হাসপাতাল, সরকারি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেব।

নয়া দিগন্ত : আপনার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

কামাল হোসেন : মানুষ বিগত সময়ে অনেকের শাসন দেখেছে। কিন্তু মানুষ তাদের সমস্যা থেকে মুক্তি পায়নি। আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে। আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। তাদের বলেছি আমরা বদলে দিতে চাই। বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়ম-দর্নীতি বন্ধ করতে চাই। এ জন্য মানুষ এবার পরিবর্তন চাচ্ছে। মানুষ দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থীকে একবার পরীক্ষা করে দেখতে চায়। আমরা আশা করি তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব। এ জন্যই আমি আশাবাদী ইনশা আল্লাহ বিজয়ী হব।

নয়া দিগন্ত : নারীদের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?

কামাল হোসেন : ইসলামই নারীদের সম্মান দিয়েছে। নারীরা হলো মায়ের জাতি। আমাদের দলে অনেক নারী সদস্য রয়েছেন। তারা চাকরিবাকরি সবই করছেন ইসলামী শরিয়ত মেনে। আমরা বিজয়ী হলে নারীদের নিরাপদ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। কর্মক্ষেত্রে যাতে নারীরা যৌনহয়রানির শিকার না হয়, পথেঘাটে ইভটিজিংয়ের শিকার না হয় সে জন্য আমরা সামাজিক সচেতনতা ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করব।

নয়া দিগন্ত : যুবকদের নিয়ে আপনাদের কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

কামাল হোসেন : দেশে যুবকরা হলো সম্পদ; কিন্তু আমাদের দেশে যুবসম্পদকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে বোঝা হিসেবে তৈরি করে ফেলা হয়েছে। আমরা যুবসমাজকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। এ জন্য প্রথম তাদের কর্মসংস্থানের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হবে। তাদের বিনাসুদে ঋণ দেয়া হবে। উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। দ্বিতীয়ত দেশে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হবে, যাতে সবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল প্রকাশের সাথেই চাকরি বা কাজ পেয়ে যায়।

নয়া দিগন্ত : মাদক নির্মূলের বিষয়ে আপনাদের কর্মসূচি কী?

কামাল হোসেন : এলাকার যুবকরা মাদকের মতো ভয়াবহ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এর সাথে তারা মাদক কারবারেও জড়িয়ে পড়ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হচ্ছে। এ জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নয়া দিগন্ত : ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন?

কামাল হোসেন : ব্যবসা হলো মানুষের আয়ের মূল উৎস। ব্যবসায়ীরাই দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। এ জন্য আমরা দেশে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। আমার এলাকার ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘেœ ও নিরাপদে ব্যবসা করতে পারেন সে জন্য তাদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে আমার প্রধান কাজ। এর পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, উৎপাদিত পণ্যের বিক্রির উপযুক্ত বাজারব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।

নয়া দিগন্ত : এলাকার ভোটারদের প্রতি আপনার কী ধরনের আহ্বান থাকবে?

কামাল হোসেন : আমি দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-কদমতলী এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। ১৭ বছরে ৯ বার আটক হয়ে ৮৫৩ দিন জেলে কষ্টে দিন কাটিয়েছি। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীর আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমরা মূলত একটি ন্যায় ও সৎ লোকের শাসন কায়েম করতে চাই। পুরনো বস্তাপচা রাজনীতির শিকার যেন এলাকাবাসী না হন সে জন্য আমরা চেষ্টা করতে চাই। এ জন্য এলাকার ভোটাররা যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি তাদের একটি উন্নত এলাকা উপহার দিতে চাই। এলাকায় সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নত মানের হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই। চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আশা করি ভোটাররা আমাকে সে সুযোগ দিবেন ইনশা আল্লাহ।

সংক্ষিপ্ত বায়োডাটা : ১৯৭৬ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্থিতে প্রখ্যাত আলেম পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী পূর্ব সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সালে জামায়াতে যোগ দিয়ে তিনি মতিঝিল থানা আমিরসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে রাজনীতির পাশাপাশি তিনি যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-কদমতলী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারমানসহ অসংখ্য সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা-সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।