জার্মান চ্যান্সেলরের পদত্যাগের দাবিতে হাজার মানুষের বিক্ষোভ

Printed Edition
জার্মানির অ্যালবার্টপ্লাৎজে ‘প্রজেক্ট মিলিয়ন’ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা  : ইন্টারনেট
জার্মানির অ্যালবার্টপ্লাৎজে ‘প্রজেক্ট মিলিয়ন’ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা : ইন্টারনেট

আনাদোলু এজেন্সি

পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যের প্লাউয়েন শহরে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। গত শনিবার স্থানীয় সড়কে অবস্থান নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা।

‘ইউনিটি ফর জার্মানি অথবা প্রজেক্ট মিলিয়ন’ উদ্যোগের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সমবেত হন বলে স্যাক্সনি পুলিশ সূত্রে জানা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘ফ্রি স্যাক্সনস’-এর নেতাকর্মীরাও সমাবেশটিতে সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন। কড়া পুলিশি নজরদারির মধ্যে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা জার্মানির জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ‘মার্জকে বিদায় নিতেই হবে’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় জোট সরকারকে অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানান বক্তারা। এক বিক্ষোভকারী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চ্যান্সেলর মার্জ তার পূর্বসূরীদের চেয়েও দেশকে বেশি সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছেন এবং এই ধারা অব্যাহত থাকলে জার্মানির ভবিষ্যৎ আরো অন্ধকার হয়ে পড়বে।

সমাবেশ থেকে আগাম নির্বাচন আয়োজন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যহ্রাস, সারা দেশে ২৯ ইউরোর গণপরিবহন টিকিট চালু এবং স্বাস্থ্যনীতিতে পরিবর্তনসহ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন এবং চ্যান্সেলরের সামরিক খাত কেন্দ্রিক অতিরিক্ত ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা। রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার অজুহাতে জার্মান সেনাবাহিনীকে ‘ইউরোপের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী প্রথাগত সামরিক বাহিনীতে’ রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেন চ্যান্সেলর, যার বিপরীতে মস্কো তীব্র উপহাস ব্যক্ত করেছে। এ ছাড়া বার্লিন ২০২৯ সালের মধ্যে সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জনকল্যাণমুখী খাতগুলোকে অবহেলা করে সমরাস্ত্র তৈরি ও সামরিকীকরণের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় চ্যান্সেলরের পদত্যাগ ও নতুন জাতীয় নির্বাচন।

বর্তমানে জার্মানিতে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, থমকে যাওয়া অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এবং ক্ষমতাসীন সরকারের অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারণে চ্যান্সেলর মার্জের জনপ্রিয়তা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ‘ইনফ্রাটেস্ট ডিম্যাপ’-এর জুলাই মাসের জরিপ সংস্থা ‘এআরডি-ডয়েচল্যান্ডট্রেন্ড’-এর তথ্যমতে, ৮৪ শতাংশ জার্মান নাগরিক চ্যান্সেলর মার্জ ও তার মধ্য-ডানপন্থী জোট ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন’ এবং ‘ক্রিশ্চিয়ান সোস্যাল ইউনিয়ন’-এর কার্যক্রমে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এতে চ্যান্সেলরের ব্যক্তিগত জনসমর্থন মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯৯৭ সালে এই জরিপ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে যেকোনো চ্যান্সেলরের জন্য সর্বনি¤œ রেকর্ড।

অনুরূপভাবে জাতীয় জরিপগুলোতে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’-র জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়ছে; এমনকি একাধিক জরিপে তারা চ্যান্সেলরের ক্ষমতাসীন জোটের সমপর্যায়ে বা তার চেয়েও বেশি সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুর দিকে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকারের পক্ষ থেকে আংশিক কর ছাড়, পেনশন নীতি পরিবর্তন ও অসুস্থতাজনিত ছুটির নিয়মে কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও তা জন-অসন্তোষ কমানোর বদলে আরো বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ এই সপ্তাহে প্রকাশ করেছে যে, জুন মাসে সরকারের মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের জেরে শরৎকালে ‘কানজলারটাউশ’ বা ‘চ্যান্সেলর পরিবর্তন’ করা নিয়ে চ্যান্সেলরের নিজ দলেই এখন খোলামেলা আলোচনা শুরু হয়েছে।