সিলেট ব্যুরো
- ১৫ হাজার কোটির বিপরীতে বিনিয়োগ মাত্র ৩০০ কোটি
- ৪০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য, কাজ করছেন ৪০০ জন
গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারাচ্ছে সিলেট হাইটেক পার্ক। ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকায় ১৭১ দশমিক ৭ একর জমিতে নির্মিত এ পার্কে ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং বিপুল কর্মসংস্থানের লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৪ দশমিক ৮৭ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হলেও উৎপাদনে গেছে কেবল র্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেড। আর পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ভবনের জায়গা বরাদ্দ নিয়েও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেনি। এখনো ৭৬ একর জমি ও দুই হাজার ৫১৪ বর্গফুট জায়গা খালি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সঙ্কট, নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই বিনিয়োগ না আসার প্রধান কারণ।
২০২৩ সালে অবকাঠামোগত কাজ শেষ হওয়ার পর হাইটেক পার্কটি চালু হয়। এখানে আইটি প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন, ১০ মেগাওয়াটের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র, দৈনিক দুই কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতার স্টেশন, ইউটিলিটি ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। তবে চালুর তিন বছর পরও কাক্সিক্ষত শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি।
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, র্যাংগস ইলেকট্রনিকস ৩২ একর জমি নিয়ে কারখানা স্থাপন করে উৎপাদন শুরু করেছে। এডিএন টেলিকম ১ দশমিক ৭৫ একর জমিতে কারখানা স্থাপনের কাজ করছে। হেলথ ল্যান্ডমার্ক হোল্ডিং, রহমানিয়া সুপার মার্কেট ও টুগেদার আইটি ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাথমিক নির্মাণকাজ শুরু করলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ। ইনোটেক হোল্ডিং, ইএলবি, আইরিশ ইলেকট্রনিক ও বঙ্গো টেকনোলজি কারখানা স্থাপনের কাজই শুরু করেনি।
এ ছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, আব্দুল বাছির এন্টারপ্রাইজ, বাহন ইকোমোবাইল, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ও আপস্কিল বাংলাদেশকে মোট ১৯ হাজার ৬২ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আপস্কিল বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
পার্কে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে সীমানা প্রাচীরের মাটি নদীতে বিলীন হয়েছে। কোথাও দেয়ালধসে পড়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার সীমানা অরক্ষিত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে এবং কিছু কালভার্টের কাজও অসম্পূর্ণ।
র্যাংগস ইলেকট্রনিকসের ডিজিএম প্রকৌশলী মো: মোরশেদুল আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তারা বিনিয়োগ করেছেন। বর্তমানে তিন শতাধিক কর্মী কাজ করছেন। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিরাপত্তার অভাবের পাশাপাশি সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থাও বিনিয়োগে অনাগ্রহ তৈরি করছে। তার মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পার্কটিতে উৎপাদিত পণ্য ভারতের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর বাজারেও নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে সিলেট হাইটেক পার্কের সহকারী পরিচালক এস এম আল মামুন নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রশ্নগুলো লিখিতভাবে দিলে তিনি বিষয়টি দেখবেন। পরে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি প্রকল্পসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠান। ওই প্রতিবেদনে দ্রুত গ্যাস সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বাসস্টপ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে এখানে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার হলেও বর্তমানে মাত্র ৪০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিদ্যমান অবকাঠামো কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।



