ময়মনসিংহ জেলায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, জেলার মোট এক হাজার ৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৩টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৪৩ শতাংশ।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় এক দিকে প্রার্থী বাছাই নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে, অন্য দিকে ভোটগ্রহণ নির্বিঘœ হবে কি না তা নিয়েও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোটাররা। তাদের প্রত্যাশা, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নিশ্চিত করার সুযোগ থাকতে হবে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলাভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলা। এ দুই উপজেলায় ৭২টি করে কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় ৬৫টি এবং পাগলা থানায় ৫৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়ায় ৫০টি, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৭টি, নান্দাইলে ৪৩টি এবং গৌরীপুরে ৪২টি কেন্দ্র বাড়তি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ছয় হাজার ৮৯২ জন, নারী ভোটার ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪১ জন।
আসনভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যায় দেখা যায়, ময়মনসিংহের বিভিন্ন আসনে পাঁচ থেকে ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। ভোটারদের মতে, জেলার অধিকাংশ আসনেই বিএনপি, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে তা দমন করবে।



