‘সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য’

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নেই : ডা: শফিক

Printed Edition
নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের  ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত
নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক ইঞ্চি জায়গা তো দূরের কথা, এক কণা বালুর ওপরও কাউকে অন্যায়ভাবে পা রাখতে দেয়া হবে না। তিনি একই সাথে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের দেয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার নেত্রকোনায় জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পৃথক দু’টি দলীয় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, দেশের বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা মুখে আমাদের বন্ধুত্বের কথা বলে। কিন্তু বন্ধুত্বের পরিচয় এভাবে হয় না যে তারা আমাদের বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা তাদের সঠিক বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানাই। এরপরও তারা যদি না শোনে, তবে কি আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব? দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’ এই সঙ্কট মোকাবেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি দেশপ্রেমের প্রতিজ্ঞা নিয়ে সাধারণ মানুষকেও সীমান্ত সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিন সকাল ৯টায় জেলা পাবলিক হলে নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের ষাণ¥াসিক রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার প্রায় ছয় শতাধিক নারী ও পুরুষ রুকন (সদস্য) অংশ নেন। সম্মেলনে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য কিছুটা সময় নিচ্ছে। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় তারা বাস্তবায়ন করবে।’ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি হজরত ইব্রাহিম আ:-এর ত্যাগ ও ইসলামের ক্ষমার আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন মহলের সমালোচনা নিয়ে ভাবার সময় তাদের হাতে নেই, বরং জনকল্যাণে প্রচুর কাজ করতে হবে। বিশেষ করে গত নির্বাচনে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি নারীকর্মীদের ত্যাগের প্রশংসা করেন।

পরবর্তীতে সকাল ১০টায় নেত্রকোনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা। সেখানে তিনি মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বলেন, তরুণ সমাজকে রক্ষায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি নেত্রকোনার অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং চাঁদাবাজিমুক্ত বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।

পৃথক এই কর্মসূচিগুলোতে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল আমীন ও জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি ও নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আবুল হোসেন তালুকদার এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

শ্রমিক নেতাকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সিলেট জেলা সভাপতি ফখরুল ইসলাম খানকে দেখতে যান ডা: শফিকুর রহমান। সম্প্রতি ফখরুল ইসলাম খানের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। জামায়াত নেতা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনায় মুনাজাত করেন। এ সময় তার সাথে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে : মাওলানা আব্দুল হালিম

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক লেনদেন, সর্বক্ষেত্রে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে মোয়ামালাত বা পারস্পরিক লেনদেনে সততা, আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে একজন জামায়াত কর্মীর ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা লাভ করে না। মানুষের আস্থা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণ।

শুক্রবার নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে দিনব্যাপী রুকনপ্রার্থী ও অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহছানুল মাহবুব জোবায়ের। শিক্ষাশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন আইআইইউসি’র সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমাদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আত্মগঠন ও মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইলম অর্জন, ইবাদতের মানোন্নয়ন, আত্মসমালোচনা, সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং চারিত্রিক উৎকর্ষের মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সমাজ তাদের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গ্রহণ করে। একজন কর্মীর উন্নত চরিত্রই দাওয়াতের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহছানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, দাওয়াতে দ্বীন প্রত্যেক ঈমানদারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌঁছে দিতে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, উত্তম আচরণ ও হিকমতের সাথে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ, সর্বস্তরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষাশিবিরে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সহসভাপতি মকবুল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমীনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।