রাজশাহী ব্যুরো
চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারসহ নানা অপরাধে উদ্বেগ বাড়ছে রাজশাহী মহানগরীতে। এসব মোকাবেলায় নতুন করে ৩৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, প্রবেশপথ ও জনসমাগমস্থলে এসব ক্যামেরা বসানো হবে। এর মধ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ২১৫টি ক্যামেরা সংগ্রহ ও স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আর রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) দিয়েছে আরো ১৫৫টি। পুলিশ বলছে, ক্যামেরাগুলো অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত ও তাদের চলাচলের পথ অনুসরণে সহায়তা করবে। তবে নগরীতে অতীতে স্থাপন করা কয়েক হাজার ক্যামেরার বড় অংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ায় নতুন উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে নগরীতে এসির তামার পাইপ চুরির অন্তত ২৫৯টি ঘটনা ঘটেছে। বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মিটারের তার চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। অপরাধীরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করায় তাদের গতিপথ শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে নজরদারি জোরদার প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ।
গত ১৯ জুন সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরি হয়। রাতে দোকানের দেয়াল কেটে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, এক হাজার ২০০ ভরি রুপার অলঙ্কার ও নগদ ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় চোররা। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে চুরি যাওয়া মালামালের মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার দাবিতে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। তবে দেড় মাসের বেশি সময় পরও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার বা কোনো অপরাধী গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। গত ২ আগস্ট নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ১৫৫টি ক্যামেরা আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবিরের কাছে হস্তান্তর করেন। আরএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজীউর রহমান জানান, একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে ক্যামেরাগুলো পরিচালনা করা হবে এবং পুলিশ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে।
আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবির বলেন, অপরাধী অপরাধ সংঘটনের পর যে পথেই বের হওয়ার চেষ্টা করুক, ক্যামেরার মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা, যানজট ও জরুরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেও এই ব্যবস্থা কাজে আসবে। রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন আরএমপিকে সহযোগিতা করছে। নিরাপদ নগর গড়তে দুই প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা নতুন উদ্যোগের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে নগরীর প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে কয়েক হাজার ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যায়। কিছু ক্যামেরা চুরি বা খোয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ক্যামেরাগুলো স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নষ্ট হলে দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপন এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে পর্যাপ্ত তথ্য সংরক্ষণ ও দ্রুত ফুটেজ বিশ্লেষণের সক্ষমতাও প্রয়োজন। নগরীর বাসিন্দাদের চলাচলের দৃশ্য ধারণ হওয়ায় এসব তথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।



