কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলল বিরল ধনেশ পাখি

Printed Edition

শান্তি রঞ্জন চাকমা রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম)

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে বিরল প্রজাতির একটি ধনেশ পাখির দেখা মিলেছে। গত বুধবার কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় পাখিটিকে দেখা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দণি বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ অফিসার মো: মামুনুর রহমান।

তিনি জানান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় নিয়মিত বনাঞ্চল পর্যবেণের সময় বিরল ধনেশ পাখিটির উপস্থিতি অনেকের নজরে আসে। বনাঞ্চলের গাছপালার মধ্যে পাখিটিকে বিচরণ করতে দেখা যায়।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রজাতির পাখি, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। পাহাড়, বন ও কাপ্তাই হ্রদঘেরা এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময় বিরল ও পরিযায়ী পাখিরও দেখা মেলে। নতুন করে বিরল ধনেশ পাখির উপস্থিতি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরণের গুরুত্বকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। কাপ্তাই রেঞ্জ অফিসার মামুনুর রহমান বলেন, বন বিভাগের প থেকে বিষয়টি পর্যবেণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, বনাঞ্চলে বিরল পাখির উপস্থিতি প্রমাণ করে কাপ্তাইয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনো অনেক বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী। এসব পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে বন উজাড়, পাখি শিকার এবং বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে আরো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিরল পাখি বা বন্যপ্রাণীর দেখা মিললে তার ছবি বা ভিডিও ধারণের েেত্র সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। পাখিটিকে কিছুতেই বিরক্ত করা যাবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুপারনিউমেরারি অধ্যাপক ড. মো: ফরিদ আহসান বলেন, পাখিটি কালো-সাদা ধনেশ (ঙৎরবহঃধষ চরবফ ঐড়ৎহনরষষ)-এর পুরুষ ও স্ত্রী পাখি বলে মনে হচ্ছে। ধনেশ পাখি সাধারণত বননির্ভর এবং বনের সুস্থ পরিবেশের সাথে এদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের পাখির উপস্থিতি একটি এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এদের উপস্থিতি থাকলে পাখিগুলোর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।