এসএম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
এবার কর্ণফুলী টানেলে যানবাহনের গতির সাথে প্রাণ ফিরছে অবহেলিত পার্বত্য চট্টগ্রামের গ্রামীণ জনপদে। গতকাল ২৩ ডিসেম্বর একনেকের সভায় বহুল প্রত্যাশিত চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া থেকে কর্ণফুলী টানেল সংযোগে কালাবিবি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প ও ‘রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী নদী সংযুক্ত নদীসমূহের (কাচালং, রাইখিয়ং ও শলক নদী) টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প দু’টি অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়ন হলে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে কর্ণফুলী টানেলের অপর দিকে টেকসই পানি ব্যস্থাপনা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পাবর্ত্য চট্টগ্রামবাসী নদী ভাঙনের ঝুঁকি ও নদী ও খালের নাব্যতা সঙ্কটের দুর্ভোগ থেকে মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ দুই প্রকল্পের মধ্যে চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া থেকে কর্ণফুলী টানেল সংযোগে কালাবিবি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৩ কোটি ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৭ কোট টাকা।
জানা গেছে, দুই দেশের (চীন ও বাংলাদেশ) যৌথ অর্থায়নে নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত মাল্টিলেন রোড টানেল চালু হলেও ট্রাফিক ভলিয়ম বৃদ্ধি না পাওয়ায় লোকসানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। গত দুই বছরে টানেল সচল রাখতে গিয়ে প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। চীন ও দেশের যৌথ অর্থায়নে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ টানেল নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর টানেলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে ( ২৯ অক্টোর ২০২৩ থেকে ২৯ অক্টাবর ২০২৫ ) টানেল রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং ৭টি ইলেকট্রো ম্যাকানিক্যাল সিস্টেম সচল রাখতে গড়ে প্রতিদিন ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে আর গড়ে প্রতিদিন টোল আদায় হচ্ছে মাত্র ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৬ টাকা। প্রতিদিন খরচ ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা হিসাবে দুই বছরে ২৭৩ কোটি ৪৫ লখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। অপর দিকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৬ টাকা করে দুই বছরে আয় হয়েছে মাত্র ৭৭ কোটি ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৩৫০ টাকা। গত দুই বছরে যানবাহন চলাচল করেছে ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৫টি গড়ে প্রতিদিন যানবাহন চলাচল করেছে ৩ হাজার ৮৬৪টি। সে হিসাবে প্রতিবছর লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা করে দুই বছরে লোকসান গুনতে হয়েছে ১৯৬ কোটি টাকা।
জানা গেছে, দুই দেশের যৌথ অর্থায়নে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ ৩৩ টাকা ব্যয়ে টানেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে । এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ৬ হাজার ৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ৭৫ টাকা রয়েছে। প্রকল্পে আনোয়ারা ও চট্টগ্রাম প্রান্তে জমি অধিগ্রণ করা হয়েছিল ৩৮৩ একর। যৌথ ভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেতু ও সড়ক বিভাগ ও চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। ২.৪৫ কিলোমিটার ও দুই প্রান্তের তীরসহ টানেলের দৈর্ঘ হচ্ছে ৩.৪ কিলোমিটার আর নদীর পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাশের সংযোগ সড়কসহ এ প্রকল্পের সর্বমোট দৈর্ঘ হচ্ছে ৯.৩৩ কিলোমিটার। আর প্রতিটি টিউবের ভিতরের অংশে প্রশস্ত হচ্ছে প্রতিটি ১০.৮ মিটার করে।
এ ছাড়া আনোয়োরা প্রান্তে ৭০০ মিটারের একটি উড়াল সড়ক বা ফ্লাইওভারসহ ৫.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের চারলেন সড়ক নির্মিত হয়েছে, যা আনোয়ারা চাতুরী চৌমোহনিতে এসে চট্টগ্রাম আনোয়ারা বাঁশখালী পিএবি সড়কের সাথে মিলিত হয়েছে। অপর প্রান্তে .৫৫ কিলোমিটার সংয়োগ সড়ক মিলিত হয়েছে নগরীর পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি পয়েন্ট দিয়ে মূল সড়কের সাথে; কিন্তু টানেল চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৭-২৮ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। টানেলে যানবাহনের গতি ফেরাতে যেসব উদ্যাগ গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন তা নিয়ে নয়া দিগন্তে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ নভেম্বর একই বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে সওজের গৃহীত দুই প্রকল্প একটি আনোয়ারা-বাঁশখালী কক্সবাজার টইটং পেকুয়া বদরখালী চকোরিয়া ঈদমনি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প ।
অপর প্রকল্পটি হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট হয়ে আনোয়ারা উপজেলা সদর পর্যন্ত ২১.৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প, প্রকল্পে বলা হয়েছে বর্তমানে ঢাকা হতে কক্সবাজারমুখী যানবাহন ও পণ্য পরিবহনে কর্ণফুলী টানেল হতে আনোয়ারা (চাতুরী) শিকলবাহা ওয়াই জংশন-শান্তিরহাট-পটিয়া বাইপাস-গাছবাড়িয়া (চন্দনাইশ) রুটে ৩৯ কি.মি. সড়ক পথ পাড়ি দিতে হয়।



