আব্দুল হামিদ কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে যাত্রীদের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি যেন কমছেই না। রেললাইনের নাজুক অবস্থা, পুরনো ইঞ্জিনের ব্যবহার এবং তীব্র টিকিট সঙ্কটে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে যাত্রীসেবা এখন উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, এই রুটের রেললাইনের অবস্থা এতটাই দুর্বল যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত আধুনিক ও শক্তিশালী ইঞ্জিনগুলো এখানে চলাচল করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পুরনো ইঞ্জিন দিয়েই উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং বগিতে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, যেখানে এই রুটে ভ্রমণের সময় হওয়া উচিত ছিল ছয় থেকে সাত ঘণ্টা, সেখানে বর্তমানে সময় লাগছে আট থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত। রেললাইনের দুরবস্থা ও গতি সীমাবদ্ধতার কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে যাত্রী চাহিদার তুলনায় টিকিট সরবরাহ অত্যন্ত কম। সংশ্লিষ্টদের মতে, দৈনিক তিন থেকে চার হাজার যাত্রীর চাহিদার বিপরীতে টিকিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২০ শতাংশের মতো। ফলে অনলাইন ও কাউন্টার- দুই জায়গাতেই তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে।
ভানুগাছ ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী সিলেটগামী ট্রেনের টিকিটের জন্য ভিড় করলেও অধিকাংশই টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সড়কপথের দীর্ঘ যানজট ও দুর্ভোগ এড়াতে মানুষ রেলপথে চলাচলের চেষ্টা করলেও এখানে এসে তারা পড়ছেন নতুন সঙ্কটে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। যাত্রী চাহিদা পূরণে নতুন ট্রেন চালুর বিকল্প নেই। দীর্ঘ দিন ধরে এ দাবি উঠলেও এখনো নতুন ট্রেন চালু হয়নি।
এদিকে রেললাইন সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিপুল অর্থ ব্যয়ে সংস্কার কাজ হলেও বাস্তবে তার সুফল দেখা যাচ্ছে না। অল্প সময়ের মধ্যেই লাইনের অবস্থা আবারো বেহাল হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত রেললাইন সংস্কার, আধুনিক ইঞ্জিন চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন ট্রেন চালুর মাধ্যমে এই রুটের যাত্রী দুর্ভোগ কমানো জরুরি। অন্যথায় সঙ্কট আরো গভীর থেকে গভীরতর হবে।



