বগুড়ায় যানজট নিরসনে করতোয়া পশ্চিম তীরে রাস্তা নির্মাণের চিন্তা

নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় ১১ শ’ কোটি টাকা

Printed Edition
বগুড়ায় যানজট নিরসনে করতোয়া পশ্চিম তীরে রাস্তা নির্মাণের চিন্তা
বগুড়ায় যানজট নিরসনে করতোয়া পশ্চিম তীরে রাস্তা নির্মাণের চিন্তা

আবুল কালাম আজাদবগুড়া অফিস

বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে বাইপাস রাস্তা নির্মাণের চিন্তা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি একনেক সভায় প্রায় ১১ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে করতোয়া, নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থাৎ এ প্রকল্পের সাথে শহরাংশে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে শহরের যানজট নিরসনে বাইপাস রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। গত ১৬ জুন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে করতোয়া, গছারিয়া ও ইছামতি নদীর পানিপ্রবাহ সৃষ্টি, দখল, দূষণ রোধসহ বেশকিছু উন্নয়ন কাজ হবে। তবে প্রস্তাবিত ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প কাটছাঁট করার কারণে বগুড়া নগরীর মধ্যে করতোয়া নদীর দু’তীরে রাস্তা নির্মাণসহ আরো কিছু কাজ আপাতত হচ্ছে না। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, করতোয়া পুনরুদ্ধারে গত এক যুগে একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করে। পরে সংশোধিত আকারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার নতুন প্রস্তাব তৈরি হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকার সে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেনি। এরপর ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসক অফিস সংলগ্ন এলাকায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন, পশ্চিম তীর সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করে পাউবো। এরপর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ করতোয়া নদীর দু’তীরে রাস্তা নির্মাণসহ বেশকিছু কাজ বাদ দিয়ে প্রাক্কলিত ব্যয় কমিয়ে এক হাজার ৯৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেয় একনেক সভা। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বগুড়া জেলা সদর, শাজাহানুর, শিবগঞ্জ, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি, গাবতলী, ধুনট ও শেরপুর উপজেলা এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদীর ২৩০ কিলোমিটার পুনঃখননের মাধ্যমে করতোয়া নদী সিস্টেমকে পুনঃজ্জীবিত করা, প্রকল্প এলাকায় সেচ সুবিধা প্রদান, পানি নিষ্কাশন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, করতোয়া নদীর শহরাংশে বগুড়া শহরের ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ স্লোব প্রটেকশন কাজের মাধ্যমে নদীভাঙন থেকে ঘরবাড়ী ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষা, নদীর শেষ সীমানা নির্ধারণ, তিনটি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, দখল ও দূষণ থেকে রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে অবদান রাখা। প্রকল্প বাস্তবায়নে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় ২২ দশমিক ৭২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

বগুড়া জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, করতোয়া নদীর উৎস পরিবর্তনের পরও মৌসুমি বৃষ্টি, আঞ্চলিক জলপ্রবাহ ও প্রাকৃতিক সংযোগের মাধ্যমে টিকে আছে। পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে নদীর জমিতে। বগুড়া শহর, শিবগঞ্জ, মহাস্থান, শাজাহানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীর ও তলদেশ দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও নানা অবকাঠামো। বহু স্থানে নদীর প্রস্থ সঙ্কুচিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলার সভাপতি সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেছেন, আশির দশকে এই স্লুইস গেটের কারণে নদীর উৎসমুখ বালুতে ভরাট হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে প্রবাহ কমতে থাকে। এখন আবার শহরের প্রায় সব ড্রেন গিয়ে পড়ছে নদীতে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক জায়গায় নদীর পাড়ে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের পর এখন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সহ অন্যান্য কাজ শেষে টেন্ডার হবে।

প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর উৎস্য মুখে নির্মিত গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালির জলকপাট সরিয়ে ফেলা হবে। এ কারণে পানির প্রবাহ নেই করতোয়া নদীতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়বে এবং প্রবাহ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে শহরাংশে বাইপাস রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানজট থেকে অনেকটা রেহাই পাবেন মানুষ।

করতোয়া নদীর উৎস্যমুখ গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি জলকপাটের কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে।