বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপন

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনন্দ-উৎসবের মধ্যে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিণত হয় সামাজিক মিলনমেলায়

যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে ৫০ অঙ্গরাজ্যে ঈদ উদযাপন

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীরা একই দিনে উদযাপন করেছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী সব দেশীয় মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের তিন সহস্রাধিক মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় এবারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব স্ট্যাটিস্টিশিয়ান্স অব আমেরিকান রিলিজিয়াস বডিস’র সূত্রে জানা যায়, গত দুই দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালের যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদের সংখ্যা ছিল এক হাজার ২০৯টি, মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১ সালে পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ১০৬টি এবং ২০২০ সালের সর্বশেষ গণনায় যুক্তরাষ্ট্রে মোট মসজিদের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৯৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ৩৪৩টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০৪টি, টেক্সাসে ২২৪টি, ফ্লোরিডায় ১৫৭টি ইলিনয়সে ১০৯টি এবং নিউ জার্সিতে ১৪১টি মসজিদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশী পরিচালিত মসজিদ, মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, পার্কের মাঠে ও গির্জার মিনলায়তনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যেসব এলাকায় মসজিদ নেই সেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গির্জার মিনলায়তনেই জুমা ও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ও বাংলাদেশী অধুষ্যিত নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইলিনয়স, কলারাডো, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, কানসাস, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, ওয়াশিংটন ও কেন্টাকি’র বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার ও দেড় শতাধিক খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বাঁধভাঙা আনন্দে প্যারিসে ঈদ উদযাপন

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন ফ্রান্স থেকে জানান, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশী মুসলিম সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। গত শুক্রবার এ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত ও আনন্দমেলার আয়োজন করা হয়।

প্যারিসে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর নিকটবর্তী স্তাঁ-এ অবস্থিত বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে। প্রতি বছরের মতো এবারও এখানে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়ে প্রতি ৪৫ মিনিট পর জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে শেষ হয় সকাল সাড়ে দশটায়। সেখানে নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এ ছাড়া লা কুরনেভ এলাকায় খোলা মাঠ ও ভাড়া করা হলরুমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাঁ-দেনি এলাকাতেও একাধিক ছোট জামাতের আয়োজন করা হয় প্রবাসী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে। বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ঐতিহ্যবাহী গ্রঁদ মস্কো দ্য প্যারিস-এ প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টা ও ৮ টা ৪৫ মিনিটে। এখানে বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা অংশ নেন। এ ছাড়া সাখর্সেলের ইন্ডোর স্টেডিয়ামসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের মসজিদেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এ দিকে ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিঁও শহরে এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশীরা সম্মিলিতভাবে ঈদের জামাত আয়োজন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের মতে, এটি ছিল একটি সুশৃঙ্খল ও সম্প্রীতিময় আয়োজন, যা কমিউনিটির ঐক্যের প্রতিফলন। একইভাবে মার্সাই, তুলুজ এবং স্ত্রাসবুর্গ শহরেও বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন

আশরাফুল মামুন মালয়েশিয়া থেকে জানান, ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় উদযাপিত হলো মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে প্রায় দেড় মিলিয়ন বাংলাদেশী প্রবাসীও এই ঈদ উৎসবে শরিক হয়েছেন। পবিত্র সিয়াম সাধনার পর বিদেশের মাটিতে স্বজন ছাড়া সাদামাটাভাবেই নিরানন্দ ঈদ উদযাপন করেছেন প্রবাসীরা। কিছু কিছু কোম্পানিতে প্রবাসীদের ঈদের দিনেও কাজ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতীয় মসজিদ নেগারায় এবং প্রশাসনিক এলাকা পুত্রাজায়া মসজিদে দেশের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মসজিদ নেগারায় ঈদের নামাজে অংশ নেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রবাসীরা। তবে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কুয়ালালামপুরের কোতারায়া বাংলা মসজিদ, তিতিংসা বায়তুল মোকাররম বাংলা মসজিদ ও হাং তুয়া আল বোখারী মসজিদে। এসব মসজিদে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশী বেশি হওয়ায় কোতারায়া বাংলা মসজিদে দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।