খাল খননের উদ্বোধন

বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন : নয়া দিগন্ত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাজনীতি হচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আর এই কাজটি দেশের মালিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। সে জন্য তিনি সব সময় জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতায় দেশ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

গতকাল দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা, এলাকার মানুষ, দেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ কিভাবে ভালো চিকিৎসা পেতে পারে সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমাদের সন্তানেরা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা কিভাবে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে, সেটি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি।’

তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কী করে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, সেটি কৃষিতেই হোক, সেটি শিল্পেই হোক, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমি কিন্তু একা পারব না। কাকে লাগবে সাথে? জনগণকে সাথে লাগবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে যেমন আপনারা ধানের শীষের সাথে ছিলেন, যেমন সমর্থন দিয়েছেন, এখনো কিন্তু আপনাদের সমর্থন ছাড়া এই কাজগুলো করতে পারব না। জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশ উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা বিশ্বাস করি জনগণই হচ্ছে আমাদের সব ক্ষমতার উৎস।

অনেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সতর্ক-সজাগ থাকতে হবে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে কারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। দেশের মালিক জনগণ সাথে থাকলে যে কোন কাজ যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই আমি সবসময় একটা কথা বলি, ‘করবো কাজ’, গড়বো দেশ’। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সবার আগে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই খাল কাটা কর্মসূচি, এটিই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটিই হোক আমাদের শপথ। ইনশাআল্লাহ এই খাল খনন কর্মসূচি কতটুক সফল হলো আমি খবর রাখব। আমি যখন শুনব যে এই ১২ কিলোমিটার খাল কমপ্লিট হয়ে গেছে, ইনশাআল্লাহ আমি দেখতে আসব। আবার দেখা হবে আপনাদের সাথে এই খালের পাড়ে ইনশাআল্লাহ। আবার দেখা হবে এই এলাকার মানুষের সাথে।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সেই কাজগুলো করা, যে কাজগুলো করলে মানুষের উপকার হবে। যেই কাজগুলো করলে মানুষ খুশি হবে, আমরা চেষ্টা করি সেই কাজগুলোই করতে। সে কারণেই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনর্খননের কাজ শুরু করেছি।

১২ কিলোমিটার এই খাল খননে মানুষের কী কী উপকার হবে, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি পাবেন। প্রায় ১২০০ হেক্টর জমি সেচসুবিধার মধ্যে আসবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবেন, এই খালের পানি বিভিন্নভাবে তারা ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি হচ্ছে এই এলাকার কৃষক ভাইয়েরা, এই এলাকার কৃষাণী বোনেরা তারা যে ফসল উৎপাদন করবে, এখন যে ফসল উৎপাদন হচ্ছে তার থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি হবে।

বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগ গ্রাম অঞ্চলে বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষি যদি বাঁচে, কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। সেই জন্যই আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে আপনাদের ভোটে আল্লাহর রহমতে বিএনপি জয়যুক্ত হলে পরে সবচেয়ে প্রথম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ছিল সুদসহ আমরা মওকুফ করে দিবো। আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করেছি।

আগামী পাঁচ বছরে প্রায় বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল খননের মাধ্যমে একদিকে বর্ষার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে পানি চলে আসে, নদী খাল সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উজান থেকে যখন হঠাৎ করে পানি আসে, তখন দেখি যে আমরা নদী-খালবিলের আশপাশে যে বাড়িঘর আছে মানুষজনের সেগুলো ভেসে যায়, গরু-ছাগল ভেসে যায়, মানুষের কাপড়-জামা নষ্ট হয়ে যায়। ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এরকম সমস্যা যাতে না হয়, আমরা চাই খাল খননের মাধ্যমে উজানের সময়, বর্ষার সময়ের অতিরিক্ত পানি ধরে রাখব। কারণ উজানের সময় যেই পানিটা আসে, আপনারা প্রত্যেকেই এটার উপরে অভিজ্ঞ, দেখেছেন, সাত দিন-দশ দিন থাকে, তারপর সেই পানির আর খবর নাই। এই পানি যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে শুষ্ক মৌসুমেই হোক, বর্ষা মৌসুমেই হোক, কৃষক ভাইদের যাতে পানি সরবরাহ করতে পারি। যাতে উৎপাদন বাড়াতে পারি।

এ সময় তিনি বলেন, চার কোটি পরিবারের মায়েদের কাছে, আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। সেই কাজটিও কিন্তু আমরা শুরু করেছি। আমি জানি, এই এলাকার কোন মা-বোন এখনো ফ্যামিলি কার্ড পান নাই। তবে এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনারা পাবেন, একটু সময় লাগছে কারণ সরকারের কিছু নিয়ম-কানুন আছে। পাইলট প্রজেক্ট প্রথমে শুরু করতে হয়। সেই পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নাই, এই এলাকাসহ পুরো দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় সমগ্র এই রংপুর বিভাগের যত মায়েরা আছেন সবার কাছে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিব।

তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে ধীরে ধীরে সব কৃষক ভাইদের কাছে, বিশেষ করে যারা ছোট কৃষক, ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক, মধ্যম কৃষক, তাদের কাছে আমরা এই কার্ডগুলো দিব যাতে করে এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো। বিএনপি, শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকদের বন্ধু। আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার হচ্ছে কৃষকের বন্ধু। কৃষক ভালো থাকলে, কৃষাণী ভালো থাকলে এই দেশের মানুষ ভালো থাকবে। কাজেই কৃষক ভাইদের আমরা ভালো রাখতে চাই, কৃষাণী বোনদের আমরা ভালো রাখতে চাই। এই কৃষিকে আমরা শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে তুলতে চাই।

এই এলাকার মানুষের জন্য আরেকটি খবর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই যে এখানে ইপিজেড আছে দিনাজপুরে, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়ে, এই এলাকায় আর কী কী কৃষিনির্ভর মিল-ইন্ডাস্ট্রি করা যায় যাতে করে এই এলাকার যারা বেকার যুবক আছে, বোনেরা আছে, তাদের যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেই উদ্যোগও ইনশাআল্লাহ আমরা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, এই দেশের মানুষই একাত্তর সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিল। এই দেশের মানুষই ২০২৪ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে এই দেশের ছাত্র-জনতা এই দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় করেছিল। কাজেই এই দেশের মানুষই শহীদ জিয়ার সময় এই খাল খননের মাধ্যমে, পানি সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করে এই দেশ থেকে বিদেশে খাদ্য রফতানি করেছিল। তাহলে এই দেশের মানুষ যদি এত বড় কাজ করতে পারে, ইনশাআল্লাহ আপনারাই গড়ে তুলতে পারবেন আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।

নানা-নানির কবর জিয়ারত

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানায়, গতকাল কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ বছর পর দিনাজপুর শহরে আগমন করেন। এসেই তিনি নানি বেগম তৈয়বা মজুমদার, নানা ইস্কান্দার মজুমদার, বড় খালা বেগম খুরশিদ জাহান হক এবং খালাতো বোন মীমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি কবরস্থানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মুনাজাত করেন।

সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে : অর্থমন্ত্রী

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও এনার্জি ক্রাইসিস চলছে, এর মধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। অর্থের বিষয়টি হিসাব রেখেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বামনসুন্দর খাল খনন উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

খাল পুনঃখনন উপলক্ষে মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (সেচ) মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার প্রমুখ।

মিরসরাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার।

পানির স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা না হলে মানবসভ্যতা বিপদে পড়বে : মঈন খান

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী হয়ে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মহিষাখালী খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ও নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসন থেকে নির্বাচিত এমপি সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী এবং নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো: আশরাফ উদ্দিন বকুল।

খাল ও জলাধার খনন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশব্যাপী খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকালে কেরানীগঞ্জের দীঘিরপাড় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করার সময় ঢাকা-৩ সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একথা বলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে কোদাল হাতে খাল খনন কাজে অংশ নেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী।

জিয়া দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছিলেন : ভূমিমন্ত্রী

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি দুর্ভিক্ষপূর্ণ অবস্থা থেকে দেশকে শস্য শ্যামলা বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছিলেন।

গতকাল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বিল লতা খালের বেলগাপুর থেকে জুলুপাড়া পর্যন্ত ১২০০ মিটার খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিডি) বাস্তবায়নে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই খাল খনন করা হবে।

নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক নান্নু, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর-ই আলম মিঠু, নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধালু, নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে : বিমানমন্ত্রী

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করে সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

সোমবার মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ‘তালুক হাঁপানিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান মানিকগঞ্জের শিবালয়ের ঐতিহাসিক কাশাদহ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। আমরা আশা করছি, অচিরেই সেই খালটির পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও পর্যায়ক্রমে খাল খনন করা হবে। এর ফলে কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে।’

তালুক হাঁপানিয়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির।

খাল খননের মাধ্যমে দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে : হুইপ দুলু

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। আঙুলে ভোটের কালির ছাপ শুকানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছেন। খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি দেশে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে, মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে, কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড দেয়া হবে, এটির মাধ্যমে তারা সুদমুক্ত ঋণ পাবেন।

তিনি সোমবার বেলা ২টায় বড়াইগ্রামের কুমরুল এলাকায় মির্জা মামুদ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। কুমরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোর-৩ আসনের (সিংড়া) সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: আনোয়ারুল ইসলাম আনু, নাটোর-৪ আসনের (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো: আব্দুল আজিজ, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো: ইফতে খায়ের আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজ, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীন কুমার গোস্বামী, জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এম লুৎফর রহমান ও অধ্যক্ষ আশরাফ আলী, বড়াইগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র ইসাহাক আলী ও জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আলী আকবর বক্তব্য রাখেন।

গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ছাড়া দেশ এগোবে না : প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম বলেছেন, যদি আমরা গ্রামীণ অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে না পারি, যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই, তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ছাড়া প্রকৃত অর্থে দেশ এগোতে পারে না।

দেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় আয়োজিত খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচি শুধু লোকদেখানোর জন্য নয়। নদী-বিলের সাথে সংযোগ রেখে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। খালখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষিকাজ, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নিকলী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন প্রমুখ।