- এবার ৪৫ শতাংশ ভোটারের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছর
- দুই ভোট আয়োজনে ব্যয় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা
- আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে ইসি সন্তুষ্ট : ইসি আবুল ফজল
দেড় দশকেরও বেশি সময় পর আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব হলো ‘জুলাই চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত একটি সংবিধানিক গণভোটও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। গত দেড় দশকে ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকা মানুষেরা কাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন। জুলাই ’২৪ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভোটাধিকারহরণকারী ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ হাজারো শহীদের জীবন ও হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়ার বিনিময়ে এই ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। গত ১১ ডিসেম্বের ঘোষিত তফসিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের মহাসড়কে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে চার কোটি তরুণ ভোটারসহ বঞ্চিতরা প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসী বাংলাদেশীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ জন, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটারের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে কাল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। সহস্রাধিক ড্রোনের মাধ্যমে এবারের নির্বাচন বিভিন্ন বাহিনী ও ইসির নজরদারিতে থাকছে। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, জেলাতে ব্যালট চলে গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছে যাবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা
এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫০টি রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৭৫৫ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় ৬৩ জনসহ মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৮৩ জন। আর পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন। এদের মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।
ভোটার ও ভোট কেন্দ্রের তথ্য
এবার পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। ভোটগ্রহণের জন্য এবার মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। সাধারণ কেন্দ্র হলো ২১ হাজার ২৭৩টি।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রায় ৮ লাখ
এবার ভোটগ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসার ৬৯ জন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হলো ৫৯৮ জন। প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন। আর পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
বিচারিক ও নির্বাহী হাকিম
ভোটে নির্বাচনী অপরাধের বিচার করার জন্য ৬৫৭জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন, মোট পাঁচ দিন মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া থাকবেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
৫৪০ বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক
ভোট দেখতে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করবেন ৫৪০ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। এর মধ্যে ইসির আমন্ত্রণে আসছে প্রায় ৬০ জন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে আসছেন প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে আসছেন প্রায় ১৫০ জন বিদেশী সাংবাদিক।
ইসি জানায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটান ও নাইজেরিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আইসিএপিপি (ওঈঅচচ-ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈড়হভবৎবহপব ড়ভ অংরধহ চড়ষরঃরপধষ চধৎঃরবং)-এর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তুরস্ক থেকে ছয়জন সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিলের কর্মকর্তাসহ ১০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধিদল এবং ফিলিপাইন, জর্জিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, জর্দান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের নির্বাচন কমিশনের কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে এসেছেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম-প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮ জন, আলজাজিরা থেকে সাতজন সাংবাদিকসহ জাপানের সংবাদসংস্থা এনএইচকে (ঘঐক), বিবিসি নিউজ (ইইঈ ঘবংি), অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (অচ), রয়টার্স (জবঁঃবৎং), এবিসি অস্ট্রেলিয়া (অইঈ অঁংঃৎধষরধ) ও ডয়েচে ভেলে (উড-উবঁঃংপযব ডবষষব)-এর প্রতিনিধি এবং স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা রয়েছেন।
আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক রয়েছে ২২৩ জন। এ ছাড়া কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (অঘঋজঊখ) থেকে ২৮ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (ওজও) থেকে ১২ জন এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক স্বপ্রণোদিতভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসছেন।
২ ঘণ্টা অন্তর তথ্য জানাতে হবে
ইসির পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টায় থেকে শুরু করে বেসরকারি ফল না পাওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ভোটগ্রহণ চলাকালে নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর ভোট দেয়ার হার, ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার থেকে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণী পাঠাতে হবে।
বিশ্লেষক মুনিরা খান বলছেন
ফেমার সভাপতি মুনিরা খান বলেন, নির্বাচন তো কালকে দিন পর পরশু হবে। এখন যদি প্রশ্ন উঠে যে নির্বাচন কেমন হবে; তাহলে আমার একটাই উত্তর- নির্বাচন একটা হতেই হবে। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা এবং ইন্টিগ্রিটির সাথে সবাইকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে যে নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য হয়। বিশেষ করে আমি তরুণদের কথা বলেছি।
তিনি বলেন, তারা এবার নতুন ভোটার। অনেক পুরনো তরুণ ভোটারও কিন্তু নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পায় নাই। তারা কিন্তু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে তারা একটা ভোট দিতে চায়। তারা দেশের উন্নয়নে ভোট দেবে। এদের সুবিধা দেয়ার জন্য সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবার উচিত ভোটটা যেন সুস্থ নিরাপদ পরিবেশে হয়।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, ত্রুটিমুক্ত সবার গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হতেই হবে। এটা এখন আর কারো পছন্দের পর্যায়ে নেই, এটা এখন দেশের জন্য আবশ্যিক। যার মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা একটি অর্থবহ, সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে পারে, এটাই এখন জাতির প্রত্যাশা।
ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুল বলেন, এখন নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় মনোযোগ দেয়া উচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। ভোটের দিন কোথাও বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটলে পুরো নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বগুড়ার সাম্প্রতিক ঘটনার মতো কিছু হলে সেটি অবশ্যই উদ্বেগের। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের সময়সূচি বা কাউন্টিং প্রক্রিয়া কমিশন পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়া এবং ফলাফল যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশ করা। কারণ ফলাফল প্রকাশে বিলম্বিত হলে একটা অসেন্তাষ দেখা দিতে পারে।
ইসি আবুল ফজল সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্ববর্তী দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে অনেক ভালো। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিচ্ছিন্ন কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা না ঘটলে পরিবেশ আরো সুসংহত হতো।
৭ লাখ ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট ভোটকর্তার কাছে পৌঁছেছে
ইসির সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রধান ড. সালীম আহমাদ খান গণমাধ্যমকে জানান, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পেপার বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তবে ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৩৩ জন। ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ১২ হাজার ৯১৬ জন। আর সংশ্লিষ্ট দেশের ডাকবক্সে জমা দিয়েছেন ৫ লাখ ২ হাজার ৪৮৭ জন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭ জন প্রবাসী তাদের ভোট প্রদান করে পুনরায় দেশে পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯টি ব্যালট। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্য দিকে দেশের অভ্যন্তরে সরকারি চাকরিজীবী, কারাবন্দী ও যারা ভোটের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা এমন ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৬ জন। ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন ৫ লাখ ৪০৮ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ১০ হাজার ১৫৪ জন ভোটার তাদের ব্যালট পূরণ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।
ইসি বলছে, পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত যেসব ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছবে, কেবল সেগুলোই গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপরই শুরু হবে চূড়ান্ত ভোট গণনা কার্যক্রম।
গণমাধ্যমকে ইসি সচিব সত্য যত কঠিনই হোক, সত্যই বলা হবে
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত হবে না বলে আশ্বস্ত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সত্য যত কঠিন হোক সত্যই বলা হবে। তিনি বলেন, ২৯৯ আসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যালট পেপার ও নির্বাচন উপকরণ এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন কেবল ভোটের দিনের অপেক্ষা।
গতকাল ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিদেশী সাংবাদিকদের জন্য তথ্য অধিদফতরের উদ্যোগে ‘মিডিয়া সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইসি সচিব এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
ইসি সচিব বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হলে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রথমে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে যাবে। সেখান থেকে রিটার্নিং অফিসার ফলাফল সঙ্কলন করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশন পর্যায়ক্রমে সেই ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করবে। তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের কারণে রিটার্নিং অফিসারের দফতরে আলাদা একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট গণনায় কাঠামোগত প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন থাকায় এসব কেন্দ্রের ফলাফল আসতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
আখতার আহমেদ জানান, কোনো কোনো সংসদীয় আসনে ১২০টির বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দফতরের পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রসহ মোট ১২১টি কেন্দ্রের ফলাফল একসাথে সঙ্কলন করতে হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে এই সঙ্কলন কার্যক্রম শুরু হবে, যার সময়সূচি রিটার্নিং অফিসাররা আগেই ঘোষণা করেছেন।
সাংবাদিকদের ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্যের ব্যাখ্যাও দেবে। তবে অপতথ্য ও অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য যত কঠিনই হোক, সত্যই বলা হবে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শতভাগ নির্ভুলতা সম্ভব না হলেও উল্লেখযোগ্য ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং মৃত ভোটারদের নাম কর্তন ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, তরুণ ভোটার অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আইনে সংশোধন এনে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে দুই ধরনের ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, একটি ব্যালটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের সরকার নির্ধারিত হবে আর অন্য ব্যালটের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই দু’টি প্রক্রিয়া একসাথে পরিচালনা করা কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ধাপে ধাপে তা মোকাবেলা করা হয়েছে। তিনি জানান, ২৯৯ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনে পরবর্তীতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বিদেশী সংবাদকর্মীদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের যাতায়াত ও কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই, উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ নির্বাচন আয়োজন করা।



