কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জ্ঞান ও ধৈর্যের বিকল্প নেই: গোলাম পরওয়ার

Printed Edition
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীর নামাজে জানাজায় যোগ দিতে ইরানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা : নয়া দিগন্ত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীর নামাজে জানাজায় যোগ দিতে ইরানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা : নয়া দিগন্ত

রাজশাহী ব্যুরো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে কাজ করলে সংগঠন যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একটি আদর্শিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো নৈতিকতাসম্পন্ন রুকন (সদস্য), তাই কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জ্ঞান, ধৈর্য ও পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

গতকাল শুক্রবার রাজশাহী মহানগরী ও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে পৃথকভাবে আয়োজিত দিনব্যাপী রুকন শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত মহানগরী জামায়াতের শিক্ষাশিবিরে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তৃণমূল নেতাদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করা সম্ভব। তিনি রুকনদের আত্মশুদ্ধি, ব্যক্তিগত নৈতিকতার উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় এতে বক্তারা প্রতিটি এলাকায় সুশৃঙ্খল দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

এ দিকে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগেও শুক্রবার পৃথকভাবে দিনব্যাপী রুকনদের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো: গোলাম মুর্তজার সঞ্চালনায় এই শিবিরেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংগঠনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার তাগিদ দেন।

জেলা শাখার সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি রুকনদের আমানতদারিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্ব আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়। তাই নিষ্ঠা ও সময়ানুবর্তিতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্য বিশেষ অতিথি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ গণভিত্তি রচনায় দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, উত্তম চরিত্র ও জনসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই সংগঠনের গণভিত্তি সম্প্রসারণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জুলাই শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে সরকার বেঈমানি করছে : এটিএম মা’ছুম

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেছেন, ক্ষমতায় বসার সাথে সাথে বিএনপি জুলাই চেতনা অস্বীকার করছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচির আয়োজন না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীদের রক্তের সাথে সরকার বেঈমানি করছে, বিশ্বাসঘাতকতা করছে। জুলাই চেতনা সরকার বিশ্বাস করে কি-না জাতির সামনে স্পষ্ট করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কোনো সরকার টিকতে পারেনি, পারবে না।

গতকাল শুক্রবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যাত্রাবাড়ী জোন সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গণভোটের রায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গণতান্ত্রিক গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করতে না পারাই ফ্যাসিবাদের আচরণ। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের বিরোধীদল হিসেবে গণতান্ত্রিক গঠনমূলক সমালোচনা করার কারণে সরকারের অনেক মন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, হাসিনার ভাষায় কথা বললে, হাসিনার তৈরি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটলে, জনগণকে উপহাস করলে হাসিনার মতো দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। অতীত স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, অতীত ভুলে গেলে অতীতের চেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, শহীদের পরিবার ও তাদের সন্তানের দায়িত্ব আমাদেরকে পালন করতে হবে। শহীদদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে আমাদেরকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল আসাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান।