১২ তারিখের নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি আরেকটি অদৃশ্য লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- অর্থের লড়াই। কে ক্ষমতায় যাবে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- কে অর্থের জোরে ক্ষমতার ভেতরে ঢুকবে। বিশেষ করে দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ দিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী কিছু বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও সাবেক ব্যাংক মালিকগোষ্ঠী আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে- এমন অভিযোগ রাজনৈতিক মহল, অর্থনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।
বাংলাদেশে ব্যাংক খাত যেন কেবল আর্থিক সংস্থান নয়, এটি রাজনীতিরও শক্তিশালী হাতিয়ার। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বড় ব্যাংকের মালিকদের সাথে রাজনৈতিক নেতা ও সিন্ডিকেটের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কৃত্রিম ঋণ, অর্থ স্থানান্তর এবং তহবিল সংগ্রহ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল নির্বাচনী তহবিল নয়, নির্বাচনের আগে বাজার-রাজনীতি-অর্থ নেটওয়ার্কের একটি জটিল নেক্সাস। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন : ‘যেখানে ব্যাংক ঋণ ও অনুমোদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়, সেখানে অর্থনীতি টেকসইভাবে কাজ করতে পারে না।’
গত এক দশকে বাংলাদেশে ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারি, খেলাপি ঋণ, লুটপাট, পাচার ও ‘লোন সিন্ডিকেট’-এর ঘটনা সামনে এসেছে। একাধিক তদন্তে দেখা গেছে, কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ব্যাংক মালিকানা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজেদের সাম্রাজ্য গড়েছে। সরকার পরিবর্তন বা প্রশাসনিক কড়াকড়ির সময় তারা কোণঠাসা হলেও নির্বাচন এলেই আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
কেন নির্বাচন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
ব্যাংকিং খাতের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক নতুন নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি- দুই ধরনের ব্যাংকের বোর্ড নিয়োগ, ঋণ অনুমোদন, রেগুলেটরি ছাড়, পুনঃতফসিল সুবিধা- সবই রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল।
ক্ষমতায় ‘নিজেদের লোক’ থাকলে তারা পায়- বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন; খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা; তদন্ত শিথিলতা; বিদেশে অর্থপাচারের সুযোগ।
অর্থাৎ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারানো মানে তাদের জন্য আর্থিক ঝুঁকি, এমনকি আইনি জবাবদিহির আশঙ্কা। তাই নির্বাচন তাদের কাছে শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন।
অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এরইমধ্যে ছয় লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর বড় অংশই করপোরেট ও প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের হাতে। কয়েকটি বহুল আলোচিত গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে- একাধিক ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের কোম্পানিতে ঋণ দেয়া; কাগুজে কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ সরানো; রফতানি-আমদানির ভুয়া ইনভয়েসে টাকা পাচার; আর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পুনঃতফসিলের সুবিধা নেয়া। ব্যাংক খাতের মাফিয়া বলে খ্যাত বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়া দেশের প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি ব্যাংক দখল করে নেয়। পরে এসব ব্যাংক থেকে পানির মতো টাকা বের করে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাফিয়া এস আলম সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকেই নামে-বেনামে হাতিয়ে নিয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৪৫ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা।
এসব গোষ্ঠী একসময় কার্যত ‘ব্যাংক দখলদার’ হিসেবে পরিচিতি পায়। গণমাধ্যমে তাদের নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’, ‘ঋণ লুটেরা’, ‘ব্যাংক মাফিয়া’-এমন শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে।
সিন্ডিকেট কাঠামো : কে কার সাথে যুক্ত?
ব্যাংক মালিক সিন্ডিকেটের প্রধান উপাদান : বড় বেসরকারি ব্যাংকের মালিক ও বোর্ড সদস্য, বড় ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতা, রাজনৈতিক নেতা ও সমর্থক ও আর্থিক মধ্যস্থতাকারী ও অ্যাকাউন্ট অপারেটর- এরাই ছিল ব্যাংক মালিক সিন্ডিকেটের প্রধান উপাদান।
বড় ব্যবসায়ীদের থেকে ঋণ সংগ্রহ থেকে রাজনৈতিক তহবিল গঠন হয়, ব্যাংক মালিকদের সমন্বয় থেকে ঋণ সুবিধা ও লেনদেনের অবাধ্যতা সৃষ্টি হয় আর প্রশাসন বা রেগুলেটরের চোখ এড়িয়ে সিন্ডিকেট টিকে থাকে।
একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন : ‘নির্বাচনের আগে একাধিক অ্যাকাউন্টে নগদ ও স্থানান্তর দ্রুত করা হয়- এটি রাজনৈতিক চাহিদা।’
কেস স্টাডি ১ : নির্বাচনী ঋণ চক্র : নির্বাচনের আগে একাধিক বড় ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন দ্রুত হয়। এর প্যাটার্ন অনুসারে ঋণ গ্রাহক থেকে বড় ব্যবসায়ী অনুমোদন দ্রুত হয়। এর একটি অংশ নির্বাচনী তহবিলে চলে যায়। ঋণ ফেরতের পরিশোধ কিস্তি নির্বাচন শেষের পরে স্থগিত করা হয়। যেমন একটি ব্যাংক থেকে একজনের অনুকূলে ৫০০ কোটি অনুমোদন হলো আর সেখান থেকে ২০-২৫ কোটি টাকা নির্বাচনী তহবিলে চলে গেল। অন্য একটি ব্যাংক থেকে ৩২০ কোটি অনুমোদন হলো আর সেখান থেকে ১২-১৫ কোটি টাকা নির্বাচনী তহবিলে চলে গেল। একইভাবে আরেকটি ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন হলো আর ৮-১০ কোটি টাকা নির্বাচনী তহবিলে চলে গেল। নির্বাচনের পর সুদ মওকুফ, ঋণকে ব্লক অ্যাকাউন্টে নিয়ে এটি পুষিয়ে দেয়া হয়- এটিই ছিল আগের দুই দশকের চিত্র।
এতে বোঝা যায়, ব্যাংক ঋণ শুধু ব্যবসায় নয়, রাজনৈতিক অর্থের উৎসও।
কেস স্টাডি ২ : ব্যাংক-টেন্ডার-নির্বাচন নেক্সাস
প্রকল্প টেন্ডার : ব্যাংক মালিকরা বড় সরকারি/প্রকল্প টেন্ডারে সুবিধা পান টেন্ডারের অর্থ থেকে নির্বাচনী তহবিল প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সিন্ডিকেট ব্যাংককে মধ্যস্থতা হিসেবে ব্যবহার করে। এটি সাধারণ অর্থনীতি নয়; এটি নির্বাচনী তহবিল উত্থাপনের আর্থিক চক্র।
একজন সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেন : ‘নির্বাচনের আগে বড় ব্যাংকগুলো কৌশলে ঋণ ও নগদ প্রবাহকে ত্বরান্বিত করে। ছোট ব্যবসায়ী বা সাধারণ ঋণগ্রহীতা তখন থাকে প্রভাবহীন।’ প্রশাসন ও রেগুলেটরের ভূমিকা : ঋণ অনুমোদন, তহবিল প্রবাহ এবং বিনিয়োগ তদারকি নির্বাচনের সময় ঢিলেঢালা হয়। বড় লেনদেন সাধারণভাবে নজরে আসে না। ছোট ব্যাংক/খুচরা ঋণগ্রহীতার জন্য কঠোর। আর বড় সিন্ডিকেটের জন্য থাকে ছাড়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একজন বিশেষজ্ঞ বলেন : ‘ব্যাংক মালিকদের রাজনৈতিক প্রভাব এত শক্তিশালী যে সাধারণ নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।’
ভোটার বা বাজার প্রভাব; ব্যাংক-নির্বাচন নেক্সাস সাধারণ মানুষের জন্য অদৃশ্য। তবে এর প্রভাব স্পষ্ট : ঋণ সুবিধা থেকে নির্বাচনী প্রচারণার অর্থ; প্রকল্প টেন্ডার থেকে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও জনপ্রিয়তা; সরকারি ব্যাংক-প্রকল্প অর্থ থেকে সরাসরি ভোটে প্রভাব। ফলে, ব্যাংকিং সেক্টর নির্বাচনের অফ-দ্য-বুক অর্থনীতি হিসেবে কাজ করে।
খেলাপি ঋণে রেকর্ড ঊর্ধ্বগতি : ২ বছরে ৩ গুণ বেড়ে ৩৬ শতাংশে
এ দিকে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শ্রেণিবদ্ধ ঋণের সর্বশেষ ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে শ্রেণিবদ্ধ ঋণের হার ছিল ৯.৯৩ শতাংশ। একই বছরের ডিসেম্বর শেষে তা সামান্য কমে ৯.০০ শতাংশে নেমেছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ২০২৪ সালের জুনে এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ১২.৫৬ শতাংশ, সেপ্টেম্বর শেষে ১৬.৯৩ শতাংশ, আর ডিসেম্বর শেষে তা লাফিয়ে ২০.২০ শতাংশে পৌঁছে যায়। ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধির গতি আরো উদ্বেগজনক। মার্চে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২৪.১৩ শতাংশে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ২৪ টাকাই আদায় অনিশ্চিত। জুনে এই হার এক ধাক্কায় বেড়ে ৩৪.৪০ শতাংশে উঠে যায় এবং সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে তা ৩৫.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে- যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
নেট বা প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ খেলাপি ঋণের অবস্থাও সমান ভয়াবহ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যেখানে নেট শ্রেণিবদ্ধ ঋণের হার ছিল মাত্র ১.২২ শতাংশ, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে ২৬.৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রভিশন বাদ দিয়েও ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ দিনের অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক প্রভাব, পুনঃতফসিলের অপব্যবহার এবং নতুন করে কঠোর ঋণ শ্রেণিবিন্যাস নীতির কারণে প্রকৃত চিত্র এখন প্রকাশ পাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বহু বছর ধরে লুকিয়ে থাকা বড় অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বাড়বে, নতুন ঋণ বিতরণ কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত সংস্কার, কঠোর আদায় কার্যক্রম ও বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংকিং খাত দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটে পড়তে পারে।
খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বগতি তাই এখন শুধু আর্থিক সূচক নয়- এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
১২ তারিখের নির্বাচনে কিভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই গোষ্ঠীগুলোর কৌশল সাধারণত তিন ধরনের- ১. প্রার্থী বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা : বিভিন্ন আসনে ‘বন্ধুপ্রার্থী’ দাঁড় করানো বা বড় অঙ্কের অর্থসহায়তা দিয়ে ভবিষ্যতের প্রভাব নিশ্চিত করা।
২. প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে প্রভাব : ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অংশে লবিং করে অনুকূল পরিবেশ তৈরি।
৩. মিডিয়া ও জনমত ব্যবস্থাপনা : বিজ্ঞাপন, অনুদান বা ব্যবসায়িক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেদের ইমেজ পুনর্গঠন।
অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি এক ধরনের ‘পলিটিক্যাল ইনভেস্টমেন্ট’- আজ টাকা ঢাল, কাল নীতি সুবিধা নাও।
কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ?
ব্যাংক খাত কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা নয়- এটি জনগণের আমানতের ওপর দাঁড়িয়ে। যখন একটি গোষ্ঠী ব্যাংককে নিজের অর্থভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহার করে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়- আমানতকারী, ছোট উদ্যোক্তা, কৃষক, সাধারণ ঋণগ্রহীতা, সর্বোপরি পুরো অর্থনীতি।
ঋণখেলাপি বাড়লে ব্যাংকের মূলধন সঙ্কট হয়, সরকারকে জনগণের করের টাকা দিয়ে পুনঃমূলধনীকরণ করতে হয়। অর্থাৎ লুটপাটের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঁধেই পড়ে।
নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা
যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে- ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। শুধু নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই হবে না, অর্থনীতির ভেতরের এই অদৃশ্য শক্তিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা যেসব পদক্ষেপের কথা বলছেন- ব্যাংক বোর্ডে রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ; বড় ঋণের স্বচ্ছ অডিট; খেলাপি ঋণের কঠোর আইনি ব্যবস্থা; পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা; নির্বাচনী অর্থায়নে স্বচ্ছতা।
এটি না হলে একই চক্র বারবার ফিরে আসবে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
যদি এই নেক্সাস বজায় থাকে : আর্থিক স্বচ্ছতা হারাবে মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণ অস্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি পাবে বিনিয়োগ কমবে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাংক খাত রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে পড়লে দেশের অর্থনীতি টেকসই থাকবে না। এর সম্ভাব্য সমাধান হলো- ব্যাংক লেনদেনের স্বচ্ছতা, নির্বাচনী তহবিলের উৎস প্রকাশ বাধ্যতামূলক, রেগুলেটরদের শক্তিশালী মনিটরিং, বড় ব্যাংকের মালিকদের রাজনৈতিক লেনদেন সীমিত, স্বতন্ত্র অডিট ও রিপোর্টিং। শেষ কথা হলো- নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, এটি অর্থনৈতিক ক্ষমতারও লড়াই। যদি বিতর্কিত আর্থিক গোষ্ঠীগুলো আবার ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে জনগণের আমানত আবারো ঝুঁকিতে পড়বে। রাষ্ট্রের সামনে এখন পরিষ্কার প্রশ্ন- ব্যাংক কি জনগণের, নাকি গোষ্ঠীস্বার্থের?
১২ তারিখের নির্বাচন তাই কেবল রাজনৈতিক পালাবদল নয়, এটি অর্থনৈতিক ন্যায্যতারও পরীক্ষা। জনগণ ভোট দেবে প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য; কিন্তু রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে, সেই ভোট যেন কোনো অর্থশক্তির কাছে জিম্মি না হয়। প্রকল্প টেন্ডার, ঋণ অনুমোদন, এবং নগদ স্থানান্তর- বড় ব্যাংকের মালিকদের জালে কিভাবে তৈরি হচ্ছে নির্বাচনী তহবিল।



