সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির। গত ডিসেম্বরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘১৬ ডেইজ অব অ্যাক্টিভিজম অ্যাগেইনস্ট ডিজিটাল ভায়োলেন্স’ ইভেন্টে দেয়া তার একটি বক্তৃতার অংশ এটি। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘নারীরা কারো ফ্যান্টাসি বা কল্পনা পূরণ করার জন্য জন্মায়নি’।
গত অক্টোবরে ইউএন উইমেনের পাকিস্তানের ন্যাশনাল গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হন হানিয়া। সেই বিশেষ মুহূর্তটি স্মরণ করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। হানিয়া জানান, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় তাকে বারবার বোঝানো হয়েছে যে, তিনি ‘অতিরিক্ত’। কখনো বলা হয়েছে তিনি খুব বেশি উচ্চকণ্ঠ, কখনো খুব নরম, কখনো বা অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী।
তিনি লিখেন ‘ছোটবেলায় আমি ভাবতাম আমার মধ্যেই হয়তো কোনো সমস্যা আছে, কারণ বিশ্ব নারীদের যে রূপ দেখতে অভ্যস্ত, আমি ঠিক তেমন ছিলাম না। কিন্তু ইউএন উইমেনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যখন দাঁড়ালাম, তখন আমার ভেতরের সেই কিশোরীটি অবাক হয়ে উপলব্ধি করল- আসলে সমস্যা আমার ছিল না, সমস্যা ছিল সমাজ নির্ধারিত সেই গণ্ডি বা বক্সগুলোর।’
গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে চলা এই ক্যাম্পেইনের মূল বিষয় ছিল নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতা রোধ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর অপব্যবহার, ছবি বিকৃতি এবং অনলাইন মিসোজিনি (নারীবিদ্বেষ) নিয়ে হানিয়া কথা বলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জনসমক্ষে একজন নারী হিসেবে চলায় তাকে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। একজন নারী যখন আন্ডারডগ হিসেবে না থেকে বরং স্বপ্নজয়ী বা ‘গো-গেটার’ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন, সমাজ সেটি সহজে মেনে নিতে পারে না।
হানিয়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন।
তার মধ্যে একটি অসম মানদণ্ড : একজন পুরুষ একাধিক কাজ করলে তাকে প্রশংসা করা হয়; কিন্তু একজন নারী সফল হলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকে তার বিয়ে। দ্বিতীয়ত মানবাধিকার : ‘আমরা সবাই আলাদা মানুষ এবং আমাদের সবারই মানবাধিকার প্রয়োজন।’ তৃতীয়ত স্বাধীনতা : নারীরা কারো পছন্দ বা স্বস্তির জন্য জন্মায়নি; বরং নিজের শর্তে বাঁচার অধিকার সবার আছে।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে ইউএনের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে অধিকারকর্মী মুনিবা মাজারি, ভারতীয় অভিনেতা ফারহান আখতার এবং টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার মতো ব্যক্তিত্বদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন হানিয়া। বক্তৃতার শেষে হানিয়া আমির সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমরা ঠিক সেভাবেই বেঁচে থাকব যেভাবে আমরা চাই। কারো অনুমোদনের জন্য নয়, কারো ছকে বাঁধা পড়ার জন্য নয়। আমরা যেমন সেটুকুই যথেষ্ট।’



