মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর

ছেলেকে গুলি করার ভিডিও দেখে কাঁদলেন আবু সাঈদের বাবা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার; মানবতাবিরোধী অপরাধ

বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দু’টি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছেলে হত্যার ভিডিও দেখে কাঁদতে থাকেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

চব্বিশের জুলাই এক রক্তাক্ত নাম। বাংলা পঞ্জিকায় তারিখটি ছিল আষাঢ়ের শেষ দিন। একদিন পরই শুরু হয় শ্রাবণ। সেদিন সকালে রংপুরের আকাশে ঝরছিল বৃষ্টি। কিন্তু সব উপেক্ষা করে ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে উত্তরের এ শহর। এ যেন তারুণ্যের বুকে জ্বলে ওঠা প্রতিবাদের বারুদ। কিছুক্ষণ পরই হামলা চালায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ঘরানার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আর পুলিশ সদস্যরা। সেদিন পুলিশের বৃষ্টিগুলিতে পানি ঝরেনি, ঝরেছিল নিরপরাধ ছাত্র-জনতার রক্ত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার সূচনা বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি। বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দু’টি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছেলে হত্যার ভিডিও দেখে কাঁদতে থাকেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মইনুল করিম, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।

এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক বিচার। আর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আজ বৃহস্পতিবার।

সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় ট্রাইব্যুনাল, আজ (গতকাল বুধবার) এক ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আপনাদের সামনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এই দায়িত্ব কেবল আইনি দায়িত্ব নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্বও, যার মাধ্যমে আমি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য কথা বলছি। ন্যায়বিচারের ধারণাটি শুধু রাষ্ট্রপক্ষই ন্যায়বিচার পাবে, ব্যাপারটি এমন নয়। আপনারা দৃশ্যত বাংলাদেশের জন্য, মানুষের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, যা আমাদের বিচারব্যবস্থার জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধগুলোর নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রমাণ ও ঘটনার স্পষ্ট বিবরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরা। বাংলাদেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের বসবাসের উপযোগী করার জন্য এমন একটি ন্যায়বিচার হওয়া দরকার, যাতে সমাজে খুনের রাজনীতি বন্ধ হয়।’

সূচনা বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্মরণ করছি সেই দুই হাজারের মতো মানুষকে, যারা জীবন দিয়েছেন। এসব হত্যা, জখম-সম্পর্কিত যেসব উপাদান প্রসিকিউশন আপনাদের সামনে আনবে, সেগুলো দিবালোকের মতো স্পষ্ট, স্বচ্ছ ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই ট্রাইব্যুনাল ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই। আমরা অপরাধের বিচারের জন্য আপনাদের কাছে এসেছি।’

তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘নীলনকশার নির্বাচন, লাইলাতুল ইলেকশন আর আমি-ডামির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে ধরে বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশের মাটিতে খুন, গুম, রাজনৈতিক নিপীড়নের যে কালচার চালু হয়েছিল, আজ তার বিচারের ফরিয়াদি আমরা, আর আপনারা তার বিচারক। আমরা চাই, এই বিচার জাতির সভ্যতার সোপানে ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হিসেবে স্থান পাক। যাতে আগামীর বাংলাদেশের কেউ যেন গণহত্যা চালাতে না পারে।’

একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় নির্ধারিত হয় তার বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমে বলে সূচনা বক্তব্যে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কেবল আইনগত কর্তব্য নয়, এটি একটি নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অঙ্গীকার করছি, এই বিচারিকপ্রক্রিয়ায় আসামিদের প্রাসঙ্গিক অধিকার এবং সুষ্ঠু বিচারপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়া হবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় ট্রাইব্যুনাল, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই মামলায় নিরপেক্ষ, নির্ভুল ও দৃঢ় বিচার নিশ্চিত করুন। দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি দিন, যাতে জনগণের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে আসে। কারণ, আমরা এমন একটি পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে ন্যায়বিচার কেবল একটি রায় নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা। অপরাধী যত বড়ই হোক, বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না।’

এই মামলায় কিছু আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকার্যক্রম চললেও তা ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুতি নয় উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বরং এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে অপরাধীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইন তার নিজস্ব গতিতে কাজ করছে। আইনের যথাযথ বিধান অনুসরণ করেই এই ট্রাইব্যুনাল অনুপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধেও রায় দেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।’

এই বিচারকার্যক্রম পুরনো রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র একটি ন্যায়সঙ্গত ও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তিকেও আইনসম্মত জবাবদিহির আওতায় আনা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনমনে আস্থা তৈরি হবে যে ন্যায়বিচার কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতদুষ্ট বা প্রভাবিত নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দৃঢ় ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন বেরোবির শিক্ষার্থীসহ স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যা ছিল তারুণ্যের দ্রোহযাত্রা, প্রতিবাদ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে। নগরীর লালবাগ এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে বিক্ষোভ মিছিল এগিয়ে এলে শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় অসংখ্য সশস্ত্র পুলিশ। তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ ছাড়া, পাঁচ নম্বর আসামি মো: আরিফুজ্জামান ওরফে জীবনের নেতৃত্বে পাঁচজন পুলিশসদস্য স্টিল ও কাঠের লাঠি দিয়ে আবু সাঈদের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা থেকে রক্ত বের হয়।’

বেলা যখন দুপুর। ঠিক তখনই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু আওয়ামী মদদপুষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আর পুলিশের যৌথ হামলায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ওই দিন আষাঢ়ের বাদল কিংবা মেঘ না থাকলেও বৃষ্টি ঝরেছিল। সে বৃষ্টিগুলির। তাই বৃষ্টিতে পানি না ঝরলেও ঝরেছিল নিরপরাধ ছাত্র-জনতার রক্ত। সেখানেই জুলাই বিপ্লবের সাহসের উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। পুলিশের লাঠিচার্জে রক্তাক্ত হয়েও দু’হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে যেন বলতে চান এভাবে মানুষ মারা চলবে না। সাধারণ ছাত্রদের বাঁচাতে চাইলেন যিনি, ঠিক তার বুকেই তাক করা হলো বন্দুকের নল।

ঘড়ির কাঁটায় বেলা ২টা ১৭ মিনিট। আন্দোনের খবর সরাসরি সম্প্রচার করছিল এনটিভি। ঠিক তখনই গর্জে ওঠে মামলার আট নম্বর আসামি পুলিশের সাবেক এএসআই মো: আমির হোসেনের রাইফেল। যে অস্ত্র কেনা হয়েছিল আবু সাঈদের ট্যাক্সের টাকায়, শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য; আর সে অস্ত্রই বিদ্ধ করল আবু সাঈদকে। তাই প্রথম গুলিটি যখন আবু সাঈদের পেটে লাগে, তখন তিনি হতবাক হয়ে যান। আবার বুক প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে যান। তখনই তাকে পর পর দুই রাউন্ড গুলি করে ৯ নম্বর আসামি সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। ফলে রাস্তার ডিভাইডার পার হয়ে বসে পড়েন আবু সাঈদ। একজন সহযোদ্ধা তাকে মাটি থেকে তোলার জন্য ধরতে গেলে আবার পড়ে যান।

আবু সাঈদকে নেয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করে আবার গুলি চালায় পুলিশ। এতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাওহিদুর হক সিয়ামের শরীরের বাঁ দিকটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। প্রায় ৬০টি ছররা গুলি তার মাথা, মুখ-হাত, বাহু, পেট, কোমর ও পায়ের বাঁ দিকে বিদ্ধ হয়। আবু সাঈদকে নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্ররা রিকশায় করে রওনা দেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে। হাসপাতালে নেয়ার পথে সহযোদ্ধাদের বাহুডোরেই ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে। তার দেহের গন্তব্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হলেও আত্মার গন্তব্য ছিল আরশে আজিমের দিকে।

এতে আরো বলা হয়, এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সংগৃহীত প্রমাণ কেবল বিশ্বাসযোগ্যই নয়। বরং, অকাট্য ও স্বতন্ত্র ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে। এই ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপিত এসব প্রমাণ অস্পষ্ট তথ্যের বিচ্ছিন্ন টুকরো নয়। বরং একটি অবিচ্ছিন্ন ও সুদৃঢ় প্রমাণশৃঙ্খল, যার প্রতিটি অংশ পরবর্তী অংশকে আরো দৃঢ়তর করে। এই প্রমাণের সামগ্রিকতা হচ্ছে চাক্ষুষ সাক্ষ্য, ডিজিটাল রেকর্ড, সরকারি যোগাযোগ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন। মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ৪৬ জন। জব্দতালিকা আটটি। জব্দতালিকার সাক্ষী ছয়জন। ভিডিও ক্লিপ ২০টি। বিশেষজ্ঞ সাক্ষী চারজন। অডিও ক্লিপ দু’টি ও তদন্ত কর্মকর্তা চারজন। এ ছাড়া, মোট সাক্ষী ৬২ জন।

গুলি করার ভিডিও দেখে ট্রাইব্যুনালে কাঁদলেন আবু সাঈদের বাবা

সূচনা বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দু’টি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছেলেকে গুলি করার দৃশ্য দেখে কাঁদেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। তিনি ছেলে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেবেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন সূত্র।

এদিন সকালে এ মামলার ছয় আসামিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

এর আগে, ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৬ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়।

গত ৩০ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী। এর মধ্যে পাঁচজনের হয়ে লড়েন আইনজীবী সুজাত মিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুনুর রশীদ। এ ছাড়া শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

গত ২৯ জুলাই তিন আসামির পক্ষে শুনানি হয়। এর মধ্যে শরিফুলের হয়ে লড়েন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। কনস্টেবল সুজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইমরানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান। শুনানিতে তিনজনেরই অব্যাহতি চান আইনজীবীরা।

২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ওই দিন আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি এ মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয় ৩০ জুন। আর ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

গৌরীপুরের ঘটনায় পুলিশের সাবেক ২ সদস্য কারাগারে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক দুই সদস্যকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল আলম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল-২-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গত বছরের ২০ জুলাই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তিন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই মামলা করা হয়।

পুলিশের সাবেক এই দুই সদস্য আগে থেকেই অন্য মামলায় গ্রেফতার ছিলেন। বুধবার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার এই দুই আসামিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।