নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ অজ্ঞাতনামা ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্তে রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন ও ডিএনএ সংগ্রহের তৃতীয় দিনে গতকাল ছয়টি লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে রোববার শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের প্রথম দিনে দু’টি এবং দ্বিতীয় দিনে চারটিসহ মোট ১২টি লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের পর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় দাফন করা হয়।
গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী অজ্ঞাতপরিচয়ের শহীদদের লাশ শনাক্তে কাজ করছে সিআইডি। এরই মধ্যে কবর থেকে তোলা ৮টি লাশের ডিএনএ সংগ্রহ ও পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করছে ঢাকার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
সিআইডি জানায়, অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় জানতে এখন পর্যন্ত ৭ পরিবারে ১১ জন স্বজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। সংগ্রহ করা নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে। কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সময়সাপেক্ষ হলেও যত দ্রুত সম্ভব সব অজ্ঞাত শহীদের পরিচয় শনাক্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী, লাশের কোনো ছবি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। এটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কাজ।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো: ছিবগাত উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী অজ্ঞাত পরিচয়ের শহীদদের লাশ তোলা হবে। এই কবরস্থানে যারা নাম-পরিচয়হীন অবস্থায় শুয়ে আছেন, তাদের পরিচয় তখন যাচাই-বাছাই করা হয়নি। তাদের পরিচয় উদঘাটন করা জাতির কাছে আমাদের দায়িত্ব। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থার (ওএইচসিএইচআর) মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফান্ডার ঢাকায় এসে পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি গত ৪০ বছরে ৬৫টি দেশে একই ধরনের অপারেশন পরিচালনা করেছেন। পরিচয় শনাক্তের পর কেউ লাশ নিতে চাইলে নিতে পারবেন।



