বিলুপ্তির পথে ভোলার কাশবন, ফিকে হচ্ছে শরতের চিরচেনা শুভ্রতা

Printed Edition

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

‘েেতর আলে নদীর কূলে পুকুরের ওই পাড়টায়, হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে বাঁশ বনের ওই ধারটায়’Ñ কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার সেই স্নিগ্ধ কাশবনের দেখা এখন আর সহজে মেলে না দ্বীপ জেলা ভোলার উপকূলীয় জনপদে। জলবায়ুর পরিবর্তন, কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার এবং মানুষের উদাসীনতায় ভোলার দণিাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিপ্রদত্ত এই চিরচেনা কাশবন।

ভাদ্র ও আশ্বিনÑ এই দুই মাসজুড়ে শরতের রাজত্ব। একসময় শরৎ এলেই লালমোহন উপজেলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও বেতুয়া নদের তীর, খাল-বিল, েেতর আইল এবং চরাঞ্চল সাদা ধবধবে কাশফুলে ভরে থাকত। বাতাসে পালকের মতো নরম সেই কাশের দোল যেন নদীর ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ত চরে চরে। গ্রামের বধূরা দল বেঁধে কাশবনে ছুটতেন খোঁপায় কাশের চূড়া গুঁজে নেয়ার জন্য। তবে কালের আবর্তে সেই রূপসী রূপ এখন অনেকটাই স্মৃতি।

প্রকৃতির সৌন্দর্য রার পাশাপাশি কাশবন গ্রামীণ অর্থনীতিতেও একসময় ভূমিকা রাখত। কাশের কচি চারা গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ ছাড়া কাশের শুকনো গাছ দিয়ে গ্রামের বধূরা ঝাড়ু, ডালি ও দোন তৈরি করতেন এবং কৃষকরা ব্যবহার করতেন ঘরের ছাউনি হিসেবে। কিন্তু আধুনিক কৃষির বিস্তার, চরাঞ্চলের জমি খণ্ডবিখণ্ড হওয়া এবং অবাধে জমি দখলের কারণে কাশবনের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।

লালমোহনের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ শিক, কবি ও সংবাদকর্মীদের মতে, রমাগঞ্জ, ধলীগৌড়নগর, লর্ড হার্ডিঞ্জ ও পশ্চিম চর উমেদ এলাকার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে আগে কাশবনের অবাধ বিস্তার ছিল। কিন্তু প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত সচেতনতার অভাবে কাশবন বিলুপ্তির পথে ঠেকেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিলুপ্তপ্রায় এই কাশবন ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রায় কৃষি ও ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে দ্রুত নজরদারি ও সংরণ উদ্যোগ প্রয়োজন; অন্যথায় নতুন প্রজন্মের কাছে শরতের শুভ্রতার প্রতীক এই কাশফুল কেবলই সাহিত্য ও ছবির বিষযে পরিণত হবে।